প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম বন্দরে কিছুকাল আগে থেকেই পণ্যবোঝাই কয়েক হাজার কনটেইনার নিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা মূল্যের জটিলতা কাটেনি। প্রায় ১৫ বছর পূর্ব থেকেই এসব পণ্য নিলাম বিক্রির জন্য ৮০ দফা চিঠি দেয়া সত্ত্বেও নানা জটিলতায় অনেক পণ্য কনটেইনারের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে বিদেশি শিপিং লাইনের কনটেইনার দীর্ঘদিন আটকে থাকায় তারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, পাশাপাশি দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ভাবমূর্তিও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস প্রতিমাসে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ২০ থেকে ৩০টি কনটেইনারের পণ্য বিক্রি করে থাকে। বিডারদের উপস্থিতিতে মাইকিং করে এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নিলামে কমলা, মাল্টা, খেজুর, আদাসহ নানারকম পচনশীল পণ্য থাকে। সেই সাথে কিছু কনটেইনারের পণ্য ই-অকশনের মাধ্যমে বিক্রিরও ব্যবস্থা থাকছে।
তবে বর্তমানে বন্দরের বিভিন্ন শেডে নিলামের অপেক্ষায় থাকা ২ হাজার ৭৪৮টি ২০ ফুটের কনটেইনার এবং ৬ হাজার ৬১৮টি ৪০ ফুটের কনটেইনার রয়েছে। এসব কনটেইনারের পণ্য ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ জানান, বন্দরের মোট ধারণক্ষমতার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা সব সময় নিলামযোগ্য কনটেইনারের দখলে থাকে। এগুলো সরানো গেলে নতুন আমদানি-রফতানি পণ্য রাখতে বড় পারিসরের জায়গা তৈরি হবে।
অন্যদিকে কাস্টমস হাউস জানিয়েছে যে, ২ হাজার ৬৯৭টি কনটেইনার নিলামের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হলেও অনুমোদন মেলেছে ১ হাজার ৬১৯টির। এছাড়াও ২০২৫ সালে ৪৯৩টি এবং চলতি বছরে আরও ৪৯৫টি কনটেইনার নিলাম শেষে বিডারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অর্থাৎ দেড় বছরে মোট ৯৮৮টি কনটেইনার খালাস করা হলেও এর মধ্যে নিলামের তালিকায় নতুন করে আরও কয়েকশ’ কনটেইনার যুক্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেছেন, নিলাম একটি নির্দিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তাই প্রক্রিয়াগত কারণে কিছুটা সময় লাগলেও সর্বোচ্চ গতিতে কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কনটেইনার ছাড়াও নিলামের অপেক্ষায় রয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৭২টি এলসিএল প্যাকেজ এবং ৬ হাজার ৯১৯টি বাল্ক পণ্য। কনটেইনারে না থেকে খোলা অবস্থায় সংরক্ষিত থাকায় এসব পণ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ এসেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস বিডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইয়াকুব চৌধুরী জানিয়েছেন, আমদানিকারকরা নির্ধারিত এক মাসের মধ্যে পণ্য গ্রহণ না করলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের উচিত আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া।
নিলাম প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে একদিকে যেমন আমদানিকৃত পণ্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি সরকারও হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব। আন্তর্জাতিক বাজারে ২০ ফুট কনটেইনারের মূল্য প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন ডলার, আর ৪০ ফুট কনটেইনারের মূল্য প্রায় ৫ হাজার মার্কিন ডলার। বিশেষায়িত রেফার কনটেইনারের দাম অন্তত ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
এমএসসি শিপিংয়ের হেড অব অপারেশন আজমীর হোসাইন চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, অনেক ক্ষেত্রেই আমদানিকারকের কারণে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হচ্ছে, তবে কনটেইনারকেই দীর্ঘদিন আটকে রাখা হচ্ছে। অথচ দায়ী হওয়া উচিত কার্গো, কনটেইনার নয়। তাকে আশাবাদী যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস ও এনবিআর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
চট্টগ্রাম বন্দর বছরে ৩৪ লাখের বেশি আমদানি-রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন