প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঝালকাঠি জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, উন্নয়নকাজে অনিয়ম, অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং বিপুল সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঝালকাঠিতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ঠিকাদারি ও উন্নয়নকাজে প্রভাব বিস্তার করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনকালে শহিদুল ইসলাম প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে কোনো বক্তব্য বা নথি পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শহিদুল ইসলাম স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে নতুন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি উন্নয়নকাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
ঠিকাদারদের কাছ থেকে কথিত কমিশনের অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদারের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঝালকাঠি জেলায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বিপরীতে শহিদুল ইসলামের কাছে কথিতভাবে ৫ শতাংশ হারে অর্থ দিতে হতো। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই হার বেড়ে ৭ শতাংশ হয়েছে।
তবে ওই ঠিকাদারের করা এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণও প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
প্রকল্প পরিচালক হওয়ার পরও অভিযোগ
পরবর্তীতে শহিদুল ইসলাম ‘বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের’ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভিন্ন উন্নয়নকাজের অনুমোদন, বাস্তবায়ন ও ঠিকাদারি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠতে থাকে।
কয়েকজন অভিযোগকারীর ভাষ্য, নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে কথিত কমিশনের হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। প্রকল্প পরিচালক হওয়ার পর সেই হার আরও বেড়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, যারা তুলনামূলক বেশি অর্থ দিতে সম্মত হন, তাঁদের কাজ অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীন ও নথিভিত্তিক যাচাই এই প্রতিবেদনে সম্ভব হয়নি।
ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে শহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী ঠিকাদারি গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।
তাঁদের ভাষ্য, অতীতে গড়ে ওঠা কথিত প্রভাববলয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও সক্রিয় রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি নথি বা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
নামে-বেনামে সম্পদ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ
শহিদুল ইসলাম এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন অভিযোগকারী। এমনকি বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, সম্পদ বিবরণী কিংবা সরকারি তদন্তের নথি এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
বক্তব্য জানতে ফোন, সাড়া মেলেনি
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোনে রিং হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
তদন্তের দাবি
সংশ্লিষ্টদের দাবি, শহিদুল ইসলামের দায়িত্ব পালনকালের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন, দরপত্র, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তালিকা এবং আর্থিক লেনদেনের নথি পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হতে পারে।
তাঁরা অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, তদন্তে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন