প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নে বিএনপি কার্যালয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা ঘটে গত বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার কামদেব শেখপাড়ায়। জানা গেছে, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুসহ ৩ জন আহত হয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে ব্যানার ছেঁড়া ও চেয়ার ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। ভিডিওতে একজনকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুরের কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে রাশেদ নামের এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। ভিডিওতে সে বলছে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান তারেক রহমানের ছবি ভালো ছিল। ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘জিয়ার ছবিটা, তারেক জিয়ার ছবিটা ভাঙ্গি দাও। খালেদা জিয়ার ছবিটা ছিড়িয়া ছবি তোলা লাগতো। সবগুলো ভাঙ্গি দাও, ভাঙ্গি দাও, ভাঙ্গি দাও।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে বেশ কয়েকটি ভাঙা চেয়ার পড়ে রয়েছে। দেয়ালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের ছবি ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। তবে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা টেলিভিশন ও টেবিলের কাচ অক্ষত ছিল। পরে আহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় গঙ্গাচড়া মডেল থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫ জন অজ্ঞাত করে একটি আজাহার দায়ের করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাশেম মিঠু।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখেছি। ভিডিওটি দেখে আমার মনে হয়েছে, মারামারির ঘটনার পর ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে।’
মীর কাসেম মিঠুর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এ নিয়ে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে বুধবার রাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী রমজান আলী জিকুসহ ১৫ থেকে ২০ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
তবে রমজান আলী জিকু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের মধ্যে শুধু হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে, এর বেশি কিছু নয়। পরে বাসায় গিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং জিয়া পরিবারের সদস্যদের ছবি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর দেখতে পাই। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ নিজেরাই ছবিগুলো ভেঙে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।
ভিডিওর বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, এটি একটি ষড়যন্ত্র। ঐ ভিডিওটি দেখেছি, যেখানে মিঠু ভাই আহত হওয়ার পরে একজন আড়াল থেকে ভিডিও করছে। এটাও একটি ষড়যন্ত্র। ভিডিওতে দেখলাম শুধু বলতেছে ভাঙ্গ ভাঙ্গ কিন্তু কেউ তো ভাঙ্গে নাই। যদি ভাঙ্গত তাহলে বুঝতাম। এটি একটি সাজানো নাটক।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা বিএনপি অফিসে দুই দফা হামলা করেছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। আমরাও দেখতেছি। আর যদি দলের কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটায়, তাহলে সাংগঠনিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা মডেল থানার ওসি আব্দুল ছবুর আমার দেশকে বলেন, ‘বুধবার রাতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাশেম মিঠু বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দিয়েছেন।’ ঐ এজাহারে ১০-১৫ জন অজ্ঞাত রয়েছে।
ছবি ভাঙ্গার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ঐ ভিডিওটা আমরা এখনো প্রশাসনিকভাবে পাই নাই। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’
এমএইচ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন