প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাঙামাটির সাজেকে বাবা শান্তি লাল চাকমাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে সোহেল চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই ঘটনায় নিহতের ভাতিজা আলোময় চাকমাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি আলোময় চাকমা বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার অথবা আদালতে আত্মসমর্পণের পর মৃত্যুদণ্ড রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, কারাগারে আটক আসামি সোহেল চাকমাকে সাজা পরোয়ানাসহ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এমন পশুবৃত্তসুলভ ও নির্মম হত্যাকান্ড সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য চরম হুমকি।
আসামি পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট মো. রাশেদ ইকবাল মন্তব্য করেন, মূল আসামি ভাতিজা আলোময় চাকমা বিজ্ঞ আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পরবর্তীতে পলাতক রয়েছেন। এই হত্যাকান্ডে নিহত শান্তি লাল চাকমার ছেলে সোহেল চাকমার সরাসরি কোনও সম্পৃক্ততা নেই। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তাকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত শান্তি লাল চাকমার হত্যাকাণ্ডে দুইজনকে ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছে। আমরা পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করব।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার উত্তর ভাইবোনছড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে শান্তি লাল চাকমাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায় আসামিরা। পরে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার নয় দিন পর কাচালং নদী থেকে শান্তি লাল চাকমার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন