প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে পাথরঘাটার এক জেলে ট্রলারের মালিক গভীর বঙ্গোপসাগরে এক জালেই বিপুল পরিমাণ ইলিশের সন্ধান পেয়েছেন। জাল ফেলার দু ঘণ্টার মধ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে জালে। মাছের পরিমাণ এত বেশি ছিল যে, জাল থেকে ইলিশ ছাড়াতে জেলেদের হিমশিম খেতে হয়। পরে প্রায় ৯৫ মণ ইলিশ নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটে ফেরে ফিশিং ট্রলার এফবি নাজমা। এই মাছ বিক্রি করে ট্রলার মালিক প্রায় ৩০ লাখ টাকা আয় করেছেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এনামুল হোসাইনের মালিকানাধীন এফবি নাজমা ট্রলারটি বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্যঘাটে আসে।
ট্রলারের মাঝি বাপ্পি মিয়া জানান, তারা ১৭ সেপ্টেম্বর গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে পাথরঘাটা থেকে রওনা দেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গভীর সাগরে জাল ফেলেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর জাল তুলতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো জালজুড়েই রুপালি ইলিশ। বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা পড়ায় জাল থেকে মাছ ছাড়াতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়।
তিনি আরো জানান, গত কয়েক মাস ধরে লঘু চাপ/নিম্নচাপে আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশের মৌসুমেও তারা ঠিকমতো মাছ শিকার করতে পারেননি। এবার এক জালেই বিপুল পরিমাণ ইলিশ পাওয়ায় ট্রলার মালিক ও জেলেরা সবাই আনন্দিত। রবিবার সকালে মাছ বিক্রি শেষে তারা আবার রাতে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ট্রলারের জেলে শ্রমিক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় সংসার চালাতে তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছিল। একসঙ্গে এত মাছ পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।’
ট্রলার মালিক এনামুল হোসাইন জানান, প্রায় ৯৫ মণ ইলিশ ১৮ হাজার টাকা থেকে ৪১ হাজার টাকা মণ ধরে বিক্রি করে ৩০ লাখ টাকার মতো আয় করেছেন। মাছগুলোর আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় দাম কিছুটা কম হয়েছে। এর চেয়ে একটু বড় সাইজের মাছ হলে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যেত। গত পাঁচ দিনে দুই ট্রিপে ৫৫ লাখ টাকার মাছ তিনি সাগর থেকে আহরণ করেছেন। তিনি ৬টি মাছ ধরার ট্রলারের মালিক।
পাথরঘাটা বি এফ ডি সি আরতদার সমিতির সভাপতি সগীর আলম জানান, চলতি ইলিশ মৌসুমে এক ট্রলারে ৯৫ মণ মাছ পাওয়া এটাই প্রথম।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন মাছের দেখা না পাওয়ায় লোকসানে ছিলেন ট্রলার মালিক ও জেলেরা। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ পাওয়ায় সেই লোকসান অনেকটাই কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন তারা। একটি মাছধরা ট্রলারে এত মাছ পাওয়ায় বিএফডিসি ঘাটে যত ট্রলার ও জেলে ছিল তারা সবাই গভীর বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন