প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের দলে কিছু পরিবর্তন লক্ষণীয় হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন হয়েছে তা হলো খেলার চিরায়ত ট্যাকটিক্সের বদল।
ইতালিয়ান এই কোচের নেতৃত্বে, নিজেদের অর্ধে কেবল ডিফেন্সে ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে, প্রতিপক্ষের অর্ধে ভিনি-কুনহারা তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। উদ্দেশ্য একটাই- প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করা এবং দ্রুত বল পুনরুদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণে যাওয়া।
বর্তমানে এই কৌশলটি ব্রাজিলের অন্যতম কার্যকর অস্ত্র হয়ে উঠেছে। আনচেলত্তির অধীনে সেলেসাওয়ের বর্তমান ৩৩ গোলের মধ্যে ৮টি এসেছে প্রতিপক্ষের বক্সের কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নেওয়ার পর। অর্থাৎ প্রতি চারটি গোলের একটি এসেছে হাই প্রেসিং কৌশল থেকে।
সর্বশেষ স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জয়ী হওয়ার ম্যাচেও এই পরিকল্পনা সুস্পষ্টভাবে দেখা গেছে। ব্রাজিলের প্রথম দুটি গোলই এসেছে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল পুনরুদ্ধারের পর। এছাড়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আরেকটি গোলও করেছিলেন একই ধরনের পরিস্থিতি থেকে, যদিও পরে সেটা ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়ে যায়।
এই কৌশলটি একেবারে নতুন কিছু নয়। ২০২৫ সালের জুনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে আনচেলত্তির ব্রাজিল যে প্রথম গোলটি করেন, সেটিও এসেছিল ডি-বক্সের কাছাকাছি বল পুনরুদ্ধার করার পর।
অনুশীলনেও এই পরিকল্পনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন আনচেলত্তি। দলের অনুশীলনে নিয়মিত এমন ড্রিল করছি, যেখানে একদল খেলোয়াড় বল ধরে রাখার চেষ্টা করেন, অপরদল সেটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বল পুনরুদ্ধার হলে দ্রুত কয়েকটি পাসের মাধ্যমে গোলের দিকে শট নিতে হয়। ম্যাচ-পূর্ব ভিডিও বিশ্লেষণ এবং ট্যাকটিক্যাল ব্রিফিংয়ে এই বিষয়টি বারবার তুলে ধরা হয়।
স্কটল্যান্ড ম্যাচের পর আনচেলত্তি মন্তব্য করেন, ‘এই দলের ইচ্ছাশক্তি বা মানসিকতায় কখনও ঘাটতি ছিল না। আমাদের সমস্যা ছিল খেলার মানগত দিক থেকে। শুরু থেকেই যে অনেক গোল করেছি, তার বেশিরভাগই এসেছে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল পুনরুদ্ধার করার পর। মিশর ও পানামার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচেও একই ঘটনা ঘটেছে। বল পুনরুদ্ধার করতে পারা আসলে দলের মানসিকতা ও সংগঠিত চাপের প্রমাণ।’
সম্ভাব্য পরিসংখ্যানও ব্রাজিলের এই কৌশলের পরিবর্তনের পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ তৈরি করছে। বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে সেলেসাও প্রতিপক্ষকে ১০৮ বার বল হারানোর জন্য বাধ্য করেছে।
এই কৌশলের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, বল প্রতিপক্ষের গোলের কাছাকাছি ফিরে পাওয়ার ফলে রক্ষণভাগকে অনেক দূর থেকে আক্রমণ নির্মাণ করতে হয় না। একই সঙ্গে, খেলোয়াড়দের নিজেদের অর্ধে দীর্ঘ সময় ধরে দৌড়াতে হয় না। ফলে শক্তি সঞ্চয় হয় এবং প্রতিপক্ষের অগোছালো রক্ষণকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত গোলের সুযোগ তৈরি করা যায়।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও আনচেলত্তির এই হাই প্রেসিং কৌশল যে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, সেটি প্রত্যাশিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন