প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন বিভিন্ন দেশের প্রায় ২৫০ জন মুসলিম আলেম, চিন্তাবিদ, গবেষক ও ধর্মীয় প্রচারক। ইসলামের অভিন্ন মূলনীতির ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য জোরদার করা এবং সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
বুধবার ‘মধ্যপন্থী উম্মাহর ঐক্য: অভিন্ন মূলনীতি থেকে ঐক্যের সনদ’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। এই সম্মেলনটি মুসলিম স্কলারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্সের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হচ্ছে। সিরিয়ার একটি প্রতিনিধিদলও সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির আওকাফবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আবু আল-খায়ের শুকরি।
উদ্বোধনী অধিবেশনে সংগঠনের মহাসচিব আলী আল-কারাদাগি সহ বিভিন্ন দেশের আলেম ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানাকে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী শুকরি মুসলিমদের অবস্থান ও প্রচেষ্টায় ঐক্য প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী বক্তব্যের ঐক্যবিষয়ক সনদ প্রণয়নে সিরিয়ার অভিজ্ঞতা একটি বাস্তবসম্মত মডেল হতে পারে।
মন্ত্রী শুকরি জানান, দেশটির সুপ্রিম ফতোয়া কাউন্সিলের সহযোগিতায় ওই সনদ তৈরি করা হয়েছে এবং এতে সিরিয়ার ১ হাজার ৮০০-এর বেশি আলেম স্বাক্ষর করেছেন। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বিভিন্ন মতপথের মধ্যে দূরত্ব কমাতে এবং ইসলামী বক্তব্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।
শুকরি বলেন, পবিত্র কোরআন ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহর ভিত্তিতে অভিন্ন নীতিগুলোকে সামনে রেখে বিভিন্ন ইসলামী চিন্তাধারা ও ফিকহি ঐতিহ্যের আলেমদের একত্র করার উপায় নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হচ্ছে। সম্মেলনের লক্ষ্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্য জোরদার করা এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত সক্ষমতা বাড়ানো।
জিল আল-কোরআন এনডাউমেন্টের পরিচালক মোহাম্মদ মুআজ আবু সালেহ বলেন, মুসলিম উম্মাহর সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও বিভক্তি মোকাবিলায় সংলাপ, পারস্পরিক দূরত্ব কমানো এবং অভিন্ন বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
তিনি সম্মেলনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য অনুসরণমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। তার মতে, এসব উদ্যোগ মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে।
এই তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে প্রস্তাবিত ‘উম্মাহর ঐক্যের সনদ’ নিয়ে একাধিক একাডেমিক অধিবেশন ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের কার্যক্রম শুক্রবারের জুমার নামাজের পর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সমাপনীতে একটি চূড়ান্ত বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।
সূত্র: সিরিয়িান আরব নিউজ এজেন্সি (সানা)
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন