প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের পুষ্টি সংকট মোকাবিলা এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউএইচসি) অর্জনে অগ্রগতি বেগবান করার জন্য বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, পুষ্টিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সম্পূর্ণরূপে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে শক্তিশালী সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পুষ্টি কার্যক্রম একীভূতকরণ’ শীর্ষক এক জাতীয় গোলটেবিল আলোচনায় তারা এই সুপারিশ করেছেন। ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এই গোলটেবিল বৈঠকটি আয়োজন করে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মূলধারায় পুষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে আলোচনা করার জন্য এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন অংশীদার, জাতিসংঘ সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস.এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি বিশেষজ্ঞ সাইকা সিরাজ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনা পরিচালনা করেন ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং ম্যাক্স ফাউন্ডেশন দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার দেশের পুষ্টি নীতিমালার প্রচেষ্টার ত্রুটিগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগগুলো দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী সরকারি মালিকানার অভাবে রয়েছে এবং মূলত দাতা-চালিত হয়ে রয়েছে, যা টেকসই পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে না।
তিনি আরো বলেন, আমরা অপুষ্টি ও খর্বকায়তা মোকাবিলায় কিছু সফলতা অর্জন করেছি, কিন্তু অগ্রগতি খুব ধীর গতির। আমাদের একটি শক্তিশালী, সরকার-নেতৃত্বাধীন এবং সমন্বিত পদ্ধতি প্রয়োজন।
একটি স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ার সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে ড. হায়দার একটি জীবনচক্র পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে নাগরিকরা জন্ম থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত একটি ব্যাপক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রতিরোধমূলক সেবা পাবেন।
তিনি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের পরিকল্পনার বিষয় এর ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সাফল্যের জন্য পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য সুরক্ষায় একটি আন্তঃখাতভিত্তিক পন্থা অপরিহার্য।
অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সমাজে বিদ্যমান অণুপুষ্টির ঘাটতির সঙ্গে রোগের সম্পর্ক তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে ৭০ শতাংশ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক ব্যধি। উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা এই ঘাটতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী স্বাস্থ্য পরিষেবার কেন্দ্রস্থলে পুষ্টিকে রাখার পরিবর্তে এটিকে প্রায়শই প্রান্তিক অবস্থানে রাখার বিষয়ে মন্তব্য করেন।
ইউনুস আলীর বক্তব্যের অনুসারে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক উপ-পরিচালক ডা. রওশন জাহান আক্তার পুষ্টির ক্ষেত্রে ‘সোনালী ১,০০০ দিন’ অর্থাৎ গর্ভাবস্থার ২৭০ দিন ও পরবর্তী দুই বছরের প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্বারোপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ বিশ্বব্যাপী পুষ্টি ও শিশু স্বাস্থ্য বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ব্যাপক ক্লিনিক্যাল গবেষণার মাধ্যমে আইসিডিডিআর,বি খর্বাকৃতির কারণ হিসেবে দুর্বল পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধিকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. ইকবাল কবির পুষ্টির জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে কীভাবে কার্যকর করা যায় সেই অমীমাংসিত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন।
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথের অধ্যাপক কাওসার আফসানা বলেন, সিস্টেম-থিংকিং এবং সিস্টেমের সংযোগ অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, পুষ্টি বর্তমানে স্বাস্থ্য, ওয়াশ, প্রারম্ভিক শিশু বিকাশ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, এবং এর ফলে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ আলোচনার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।
মূল প্রবন্ধের উপস্থাপনে, সাইকা সিরাজ বলছেন, একটি শক্তিশালী নীতি কাঠামো থাকা সত্ত্বেও পুষ্টি পরিষেবাগুলো এখনও খণ্ডিত রয়ে গেছে। আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী সরকারি প্রোটোকলের বাইরে থাকা অনানুষ্ঠানিক ও বেসরকারি পরিষেবা প্রদানকারীদের কাছে চলে যাচ্ছে।
সমাপনী বক্তব্যে ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম বলেছেন, পুষ্টি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার জন্য সরকারি খাত, বেসরকারি খাত এবং নাগরিক সমাজকে একত্রিত করার গুরুত্ব অপরিসীম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এনপিও—খাদ্য ও নিরাপত্তা বিভাগের ফারিয়া শবনম, গেইন-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার, ইউনিসেফ-এর পুষ্টি বিশেষজ্ঞ তাহমিনা ফেরদৌস, ব্র্যাক জেপিজিএসপিএইচ-এর শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের উপ-পরিচালক ড. সান্থিয়া আইরিন, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন এর প্রোগ্রাম ডিজাইন ও কোয়ালিটি বিভাগের প্রধান কাজল এম এম আহিদুল ইসলাম, বপিঙ্ক-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর শিহাব উজ্জামান, গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেড (সুখী)-এর চিফ টেকনোলজি অফিসার ও চিফ বিজনেস অফিসার মোহাম্মদ সোলায়মান রাসেল, ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এন্টারপ্রাইজেস (আইডিই)-এর প্রোগ্রাম বিষয়ক সহযোগী পরিচালক মোহাম্মদ সোয়েব ইফতেখার এবং এসএমসি এর পক্ষে এমএমএস প্রকল্পের টিম লিডার এ এস এম শহিদুল আলমও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন