প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কে দীর্ঘ সময় ধরে সাইবার অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চীনভিত্তিক হ্যাকার দলের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, দলটি মার্কিন বিচার বিভাগ, নাসা, ফেডারেল রিজার্ভ এবং সিনেটসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। যদিও কয়েকটি ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ সফল হয়েছে, বেশিরভাগ প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, কিউস্ক্যান এবং কিউটিরাউটার নামে দুটি হ্যাকিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহৃত ডোমেইন জব্দ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত সাইবার হামলা অভিযানে এই দুটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে।
আদালতে জমা দেওয়া একটি হলফনামায় বলা হয়েছে, হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল মার্কিন জ্বালানি বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার আরও চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও তাদের নিশানায় ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, কিউস্ক্যান ও কিউটিরাউটার পরিচালনা করত চীনভিত্তিক নানজিয়াং জিনজিওয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের মধ্যে চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি এবং দেশটির সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ রয়েছে।
তবে স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার বাইরে পাঠানো মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র ইমেইলে জানান, মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে উল্লিখিত নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা অবগত নন। তবে চীন সরকার সব ধরনের সাইবার হামলার দৃঢ় বিরোধিতা করে এবং আইন অনুযায়ী এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ ও মোকাবিলা করে বলে জানান তিনি।
চীনা মুখপাত্রের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র সাইবার নিরাপত্তার বিষয়কে ব্যবহার করে চীনকে কলঙ্কিত বা হেয় করার চেষ্টা করছে। জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরঞ্জিত করে চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ আরোপের অজুহাত হিসেবে ওয়াশিংটন এটি ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে চীনা কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার কথা জানান।
২০১৮ সাল থেকে নজরে মার্কিন নেটওয়ার্ক
মার্কিন আদালতে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২০১৮ সাল থেকেই হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে প্রবেশের জন্য নিজেদের তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে আসছে। তবে তাদের সব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
২০১৯ সালের আগস্টে একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএনের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে নাসার নেটওয়ার্কে ঢোকার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তিনটি অজ্ঞাতনামা গবেষণাগার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের একটি অজ্ঞাত সংস্থা এবং একটি মার্কিন নিরাপত্তা ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠে।
এফবিআই, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি বা এনএসএ এবং ইউএস সাইবার কমান্ডের সাইবার ন্যাশনাল মিশন ফোর্সের যৌথ সাইবার নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় গত কয়েক বছরের বেশ কয়েকটি হ্যাকিং প্রচেষ্টার তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে কয়েকটি অজ্ঞাতনামা মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে তথ্য চুরির ঘটনাও রয়েছে।
তবে হ্যাকারদের তৎপরতা শুধু তথ্য চুরিতে সীমাবদ্ধ ছিল না বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি। বিভিন্ন নেটওয়ার্কের দুর্বলতা শনাক্ত করতে স্ক্যান চালানোর পাশাপাশি ২০২৬ সালের মার্চে মার্কিন সিনেট ও একটি মার্কিন হাসপাতালের নেটওয়ার্কে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টাও করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
নাসার এক মুখপাত্র নির্দিষ্ট কোনো সাইবার ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এ বিষয়ে প্রশ্নের জন্য বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। অন্যদিকে বিচার বিভাগও অতিরিক্ত তথ্য জানতে পাঠানো অনুরোধের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন