প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক সদস্য এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যু এবং তুরাগ নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধারের ঘটনার প্রেক্ষিতে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। শুক্রবার জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে গণমাধ্যমের সামনে এসে তিনি সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতি, তাঁর ভিডিওর গুরুত্ব এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসহ বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তারেক রহমান জানান, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিওটি নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও নিহত তাহসিফ সৌরি সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। তিনি ভিডিওটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার ভিডিওটি যদি প্রকাশ্যে না আসতো, তবে জনগণ চূড়ান্ত পরিবর্তনের জন্য এভাবে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়তো না।" সেদিন বিকালেও দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের প্রতিরোধের মুখে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছিল। তাহসিফের পোস্ট করা ভিডিওটিই মূলত সেই প্রতিরোধকে ভেঙে দিয়েছিল।
তাহসিফ সৌরিকে অন্যায়ভাবে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ তোলেন তারেক রহমান। এ প্রসঙ্গে একটি দৈনিক পত্রিকার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "তাঁকে ‘র’-এর দালাল বানিয়ে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।" গণমাধ্যমের উচিত ওই পত্রিকার অফিসে গিয়ে জবাব চাওয়া যে তারা কেন এই ঘৃণ্য কাজটি করেছিল।
একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও অভিযুক্ত করে তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন, "ড. ইউনূসের শাসনামলে কেন তাহসিফকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হলো?" তিনি বলেন, "'দিল্লি না ঢাকা' স্লোগান দেওয়া সবাই প্রকৃত বাংলাদেশপন্থী নয়।"
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার দেশ তো এখন জামাতের দেশ হয়ে গেছে।" তিনি অভিযোগ করেন, "ওরা এই আমাদের মানে যোদ্ধা বন্ধুকে ভারতের ‘র’-এর এজেন্ট বানিয়ে তাকে চাকরি থেকে চ্যুত করেছিল।" ডক্টর ইউনূসকে জিজ্ঞেস করে তিনি বলেন, "তার সময়ে কেন তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।" এই প্রশ্নগুলো যথাযথ জায়গায় করা উচিত, তাহলে বোঝা যাবে যে ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দেওয়া সবাই বাংলাদেশপন্থী নয়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংকটকালে ড. ইউনূস বা সংশ্লিষ্ট পত্রিকা কেউই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে কোনো বিবৃতি দেয়নি।" এমনকি ড. ইউনূস কখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আন্দোলনকারী আহত যোদ্ধাদের দেখতে যাননি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তারেক রহমান দাবি করেন, "যারা ফ্যাসিবাদের সময়ে লুকিয়ে ছিল বা গুপ্ত অবস্থায় ছিল, তারাই আজ রাজপথের যোদ্ধাদের সাহসিকতা, মেধা ও ত্যাগকে তাচ্ছিল্য ও হাস্যরস করছে।" তিনি সকল বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন