প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চালু হয়নি অপারেশন থিয়েটার। চিকিৎসকের ১২টি পদ শূন্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থা খুবই উদ্বেগজনক।
বছর চারেক আগে আনা হয়েছিল কোটি টাকার যন্ত্রাংশ, কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব হয়নি। এক্স-রে মেশিনের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা বিদ্যমান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের বাকি কোটি কোটি টাকার যন্ত্রাংশ দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকার ফলে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। লোকবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে অপারেশন থিয়েটার এবং এক্স-রে মেশিন চালুর বিষয়ে বারবার চিঠি দিলেও কোনো সুরাহা মিলেনি।
স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, ২০০৮ সালে হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর থেকে প্রায় আট বছর ধরে জনবল সংকট কাটেনি। এর ফলে উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক রোগী বাধ্য হয়ে জেলা সদরে চিকিৎসার জন্য যেতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে রোগীরা জানাচ্ছেন যে হাসপাতালটি বেশ পরিপাটি, কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবার অভাব জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
হাসপাতালে ভাতিজাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা আলম মিয়া বলেন, ‘এত সুন্দর একটি হাসপাতালে এক্স-রে না হওয়াটা দুঃখজনক। মাসখানেক আগে এক আত্মীয়কে নিয়ে আসার সময় জানলাম লোকের অভাবে এক্স-রে মেশিন চালানো হয় না।’
জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলা আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ২০১০ সালের আগস্ট মাসে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি চম্পকনগর বাজারের কাছে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর হাসপাতালে উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, একটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। চিকিৎসকের জন্য ২৩টি পদ রয়েছে, কিন্তু বর্তমানে ১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে একজন চিকিৎসক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ১২টি পদ এখন শূন্য। ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসকদের থাকার কথা হলেও এখন সেখানে কোনো চিকিৎসক নেই।
সূত্র জানাচ্ছে যে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালটেন্টের তিনটি পদ, সহকারী সার্জনের পাঁচটি পদ, জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তার তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। গাইনি চিকিৎসক, অবেদনবিদ এবং সার্জারি চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকার কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব সম্ভব হচ্ছে না, অন্যান্য অস্ত্রোপচারও করা যাচ্ছে না। রেডিওগ্রাফারের পদটি খালি থাকায় এক্স-রে কার্যক্রম পুরাপুরি বন্ধ রয়েছে।
প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে ৩০০ থেকে ৪০০ জন রোগী সেবা নেন এবং গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ জন প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব ঘটে।
বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সুমন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ‘হাসপাতালে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অস্ত্রোপচার চালু করতে না পারা। এছাড়া গাইনি চিকিৎসক না থাকা একটি বড় সমস্যা। যদি লোকবল সংকট কাটানো যায়, তবে সেবার দিক থেকে এটিকে জেলার সেরা হাসপাতালে পরিণত করা যাবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে সুমন ভূঁইয়া উল্লেখ করেছেন যে, লোকবল সংকটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন