প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাইবার অপরাধের প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিকল্প নেই।
রোববার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্ত বিষয়ক ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আইজিপি বলেছেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো প্রযুক্তিগুলো নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে, এসব প্রযুক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জও নিয়ে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধীরা সাইবারভিত্তিক প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইনে হয়রানি এবং ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো অপরাধ সংঘটিত করছে। ক্রমবর্ধমান এসব অপরাধের মোকাবেলায় পুলিশের প্রচলিত কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। সাইবার অপরাধ তদন্তে সক্ষমতা অর্জন আধুনিক পুলিশিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, এই কোর্সের মাধ্যমে কর্মকর্তারা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবেন না, বরং প্রশিক্ষণ প্রদান ও যোগাযোগের দক্ষতাও অর্জন করবেন। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অন্যান্য তদন্তকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। কার্যকরভাবে অন্যান্য তদন্তকারীকে প্রশিক্ষণ দিতে পারলে সাইবার মামলা তদন্তকারীর সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি এ ধরনের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং উইং এবং পুলিশ স্টাফ কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ ও মডিউল হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর ও অতিরিক্ত আইজি কাজী মো. ফজলুল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. মোছা. শেহেলা পারভীন সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণের রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন কৌশল উপস্থাপন করেন। এ সময় পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের অনুষদ সদস্য ও রিসোর্স পারসনরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং শাখার উদ্যোগে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে ১০ দিনের এই প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে টিওটি কোর্সে অংশ নেওয়া ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ের সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন