প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রবাসী বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পর যুবক নিজেই স্ত্রীকে সেই বন্ধুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে বিয়ে দেন। সেই বিয়ের কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে তিনি সইও করেন। ঘটনার দুই সপ্তাহ পর ওই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে যশোরের মনিরামপুরের কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলায় নিজ বাড়ি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
যুবকের নাম আব্দুল্লাহ মিথুন (২৮)। তিনি ওই এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে।
মৃত আব্দুল্লাহর স্বজনদের দাবি, আব্দুল্লাহর স্ত্রী সাথী (২৬) দুই সন্তানের জননী। তিনি মালয়েশিয়াপ্রবাসী সুমনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি মোবাইল ফোনে ওই যুবককে বিয়েও করেছেন। এরপর সাথী নানাভাবে নির্যাতন করে মিথুনকে হত্যা করেছেন।
আব্দুল্লাহর চাচা এনায়েত হোসেন বলেন, ‘আব্দুল্লাহর স্ত্রী সাথী ১৫ থেকে ২০ দিন আগে সুমন নামের এক ছেলেকে বিয়ে করেছে। এরপর সুমনের পরামর্শে সাথী আব্দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। আমরা সুমন ও সাথীর বিচার চাই।’
সরেজমিনে জানা যায়, নির্মাণশ্রমিক আব্দুল্লাহ ১০ বছর আগে একই উপজেলার মধুপুর গ্রামের সাথীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ৬ ও ৪ বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তাদের সংসার ভালোই চলছিল। আব্দুল্লাহ ও তার প্রতিবেশী সুমন একসঙ্গে বড় হয়েছেন। সেই সূত্রে সাথীর সঙ্গে সুমনের পরিচয় হয়। চার বছর আগে সুমন মালয়েশিয়ায় চলে যান। পরে দেশে এসে কয়েক দিন বাড়িতে থাকার পর তিন মাস আগে আবার মালয়েশিয়ায় চলে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একপর্যায়ে সুমনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান সাথী। বিষয়টি আব্দুল্লাহ টের পেয়েছিলেন। স্ত্রীকে অনেক বুঝিয়েও ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে কাজি অফিসে নিয়ে সাথীকে সুমনের সঙ্গে বিয়ে দেন।
আব্দুল্লাহর মা রওশনারা বলেন, ‘এসব কিছু আমরা জানতে পারিনি। আমার ছেলেকে মানসিকভাবে চাপ দিত তার বউ। রবিবার রাতে ওদের মধ্যে ঝগড়া হয়। কিছুক্ষণ পরে বউ দৌড়ে এসে বলে, আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। আমার ধারণা, বউ গলায় গামছা জড়িয়ে আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। পরে লাশ বারান্দায় আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে।’
আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে স্বামীর মরদেহ রেখে সাথী ঘরে ঢুকে দরজা আটকে বসে থাকেন বলে জানান এক প্রতিবেশী। পরে দরজা ভেঙে তাকে বের করা হয়।
আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পল্লিচিকিৎসক মোবাশের আল মুবিন বলেন, ‘আব্দুল্লাহ আমার ছোটবেলার বন্ধু। তিন দিন আগে ওর সঙ্গে আমার দেখা হয়। তখন ওর মন খারাপ ছিল। দেখলাম, ও একটা নম্বরে ফোন করে কান্নাকাটি করছে, মাফ চাচ্ছে। আমি জানতে চাইলে ও (আব্দুল্লাহ) বলে, ‘বন্ধু, আমি একটা ভুল করে ফেলেছি। আমি আমার স্ত্রীকে (সাথী) নিজে উপস্থিত থেকে অন্য স্থানে বিয়ে দিয়েছি। ছেলেটির নাম সুমন। সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাই।’
মুবিন আরো বলেন, ‘আমি কারণ জানতে চাইলে বলে, ‘আমাকে বাসা থেকে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছিল। সাথী আমাকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেল করেছে। আমার দুই ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে এ কাজ করেছি।’
অভিযোগের বিষয়ে সাথী বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার স্বামী সুমনকে মোবাইল ফোনে কল করে বলে, ‘তুই আমার একটা কথা রাখ। আমার স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব নে। সুমন প্রথমে রাজি ছিল না। পরে আমার স্বামী চাপ দিয়ে ওকে রাজি করিয়েছে।’
সাথী আরো বলেন, ‘আব্দুল্লাহ আমাকে গা ছুঁয়ে শপথ করায় সুমনকে বিয়ে করতে রাজি হতে বাধ্য করে। ১৪ সেপ্টেম্বর এসব কথা হয়। আমি রাজি ছিলাম না। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর যশোরের নওয়াপাড়ার ধোপাদি এলাকার একটি কাজি অফিসে নিয়ে সুমনের সঙ্গে বিয়ে দেয়। আমার স্বামী ওই কাগজে সাক্ষী হিসেবে সই করে।’
এসব নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় জানিয়ে সাথী বলেন, ‘আমি আমার আব্বাকে সব খুলে বলতে চাই। একপর্যায়ে ও গলায় গামছা জড়িয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে।’
বিদেশে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে সুমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সুমনের ভগ্নিপতি রাকিব হোসেন দাবি করেন, ‘আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর আমরা বিষয়টি জেনেছি। পরে আমরা সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সুমন বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। আব্দুল্লাহ ও সুমনের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বের।’
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন