প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাবনায় সৎসঙ্গের প্রতিষ্ঠাতা ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৯ তম আবির্ভাব দিবসটি বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রার্থনা সভা, গঙ্গা স্নান ও ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প। এই আয়োজনটি সৎসঙ্গ বাংলাদেশের উদ্যোগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে হিমাইতপুর বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র প্রাঙ্গণে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের জন্মলগ্ন ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয়।
এরপর, প্রতীকী গঙ্গাস্নান সম্পন্ন হওয়ার পর শহরের পাথরতলা ঠাকুরবাড়ি, সিটি কলেজ ও গোপালচন্দ্র ইনস্টিটিউট মাঠে বেদমাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ভক্তরা। জন্মোৎসব উপলক্ষে পাবনা মানসিক হাসপাতালের রোগীদের মাঝে ফল ও মিষ্টান্ন বিতরণ করা হয়, এবং সাধারণ মানুষের জন্য মেডিক্যাল ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার সৎসঙ্গী অংশগ্রহণ করেন।
প্রার্থনা সভা ও ঋত্বিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সভাপতি কুঞ্জবিহারী আদিত্য, সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য, সহসম্পাদক সুব্রত আদিত্য, অমল চন্দ্র রায়, সৎসঙ্গ বাংলাদেশ ঢাকার সহসম্পাদক নিখিল মজুমদার, ডাক্তার সুব্রত রায় পিন্টু ও ডাক্তার সুদীপ চৌধুরীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ঠাকুর ভক্তরা।
সিলেট থেকে আসা ঠাকুর ভক্ত সুস্মিতা, শ্যামলী মজুমদার ও প্রদীপ কুমার বলেন, "কোনো ধর্ম বর্ণ আলাদা করে নয়, ঠাকুরের চাওয়া ছিলো সবাই যেনো ভালো থাকি। আজ ঠাকুরের ১৩৯ তম আবির্ভাব দিবসে আমাদের চাওয়াও একই। সারা বিশ্বের সব ধর্ম বর্ণের মানুষ যেনো একসঙ্গে ভালো থাকি। সবার মঙ্গল হোক।"
তারা আরও বলেন, "জন্মলগ্ন পালনের পর গঙ্গাস্নান, এই স্নানে যেনো আমাদের সকল পাপ ধুয়ে মুছে যায় এমন কামনা থাকে। একইসাথে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হচ্ছে, এ থেকে যেনো আমরা মুক্ত থাকি সেই কামনাও থাকবে ঠাকুরের কাছে।"
সৎসঙ্গ বাংলাদেশ ঢাকার সহ সম্পাদক নিখিল মজুমদার বলেন, "ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র ধর্ম বর্ণ ভেদ প্রথা বিরোধী ছিলেন, তিনি মানবতার জয়গান গেয়েছেন, খাঁটি মানুষের সন্ধান করেছেন। ঠাকুরের দীক্ষানুসারে খাঁটি মানুষ হতে পারলে মানবজীবন পূর্ণতা পাবে। ঠাকুরের দর্শন বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে সৎসঙ্গীরা কাজ করছেন।"
সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য বলেন, "ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র পাবনার হিমাইতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। এ জায়গাটি ঠাকুরভক্তদের কাছে পুন্যভূমি। কিন্ত মানসিক হাসপাতালের প্রাঙ্গণে ঠাকুরের জন্মস্থান ও বিশ্ববিজ্ঞানকেন্দ্র অরক্ষিত পড়ে আছে। আমরা এখানে ঠাকুরের স্মৃতি রক্ষায় মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের সহায়তা চাই।"
১৩৯ বছর আগে মানবতার সাধক শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র পাবনার হিমাইতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বাণী দিয়ে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মন জয় করেন। তাই এ মহাপুরুষের জন্মদিনকে ভক্তরা প্রতি বছর ঠাকুরের আবির্ভাব দিবস হিসেবে পালন করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন