প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসলামপুরের একটি আদালত সোমবার জামিন প্রদান করেছে ৬৬ বছর বয়সী জলিল আখতারকে, যিনি পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে প্রায় তিন মাস আগে আটক হয়েছিলেন। মঙ্গলবার তাকে ইসলামপুর সংশোধনাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জলিল আখতার উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি ব্লকের বাজারগাঁও ২ পঞ্চায়েতের বাঘড়ুই গ্রামের বাসিন্দা। রাজ্য পুলিশ ১৬ জুন তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। প্রথমে তাকে শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে অবস্থিত ফুলবাড়ির একটি হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ার নিজামপুরের অপর একটি হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।
২২ জুলাই আখতারকে বিদেশি নাগরিকত্বের অভিযোগে ইসলামপুর আদালতে হাজির করা হলে তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করে আসছিলেন যে তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক। তারা আদালতে ১৯৬৭ সালে তার বাবার নামে জমি কেনার বৈধ কাগজপত্রও উপস্থাপন করেন।
সোমবারের শুনানিতে বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আখতারকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আদালত তার জন্মস্থান, পরিবারের সদস্যদের পেশা এবং প্রতিবেশীদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছিল।
আদালতে উপস্থিত আখতারের স্ত্রী তোফা বিবি এবং মেয়ে কুলসুম বেগমের পরিচয়ও যাচাই করা হয়। আখতার বিচারকের সমস্ত প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়। কাগজপত্র ও তথ্যাদি পর্যালোচনার পর আদালত কিছু শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে।
আখতারের আইনজীবী শাহিদ রেজা জানান, "তিনি পুলিশকে না জানিয়ে তার বাসস্থানের বাইরে যেতে পারবেন না এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। তাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হবে এবং কোনো শারীরিক জরুরি অবস্থায় চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যেতে হলে আগেই স্থানীয় থানাকে অবহিত করতে হবে।" এই জামিনের আদেশে আখতারের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আখতারের ভাই মতিউর রহমান ক্ষোভ ও স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, "সব কাজ ফেলে দীর্ঘ তিন মাস ধরে এক প্রশাসনিক দফতর থেকে অন্য দফতরে এবং আদালতে দৌড়াদৌড়ি করে আমরা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ও শারীরিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে আমাদের যা ফসল ছিল সব বিক্রি করতে হয়েছে। অবশেষে তিনি জামিন পেলেন। সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও একজন বয়স্ক ও দরিদ্র মানুষকে অনর্থক হয়রানি করা হলো।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন