প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা করার সন্দেহে নরওয়ে পুলিশ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা টেলিনরের অসলো সদর দপ্তরে অভিযানও পরিচালনা করেছেন।
২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা করার অভিযোগে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। নরওয়ের ন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস এবং পিএসটি নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, একই মামলায় নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে জান্তা সরকার যখন বেসামরিক জনগণের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালাচ্ছিল, তখন টেলিনর তাদের সহযোগিতা করেছে। তারা গ্রাহকদের যোগাযোগের কল ইতিহাস বা ট্রাফিক ডেটা জান্তা সরকারের কাছে সরবরাহ করেছে।
২০২২ সালের মার্চ মাসে মিয়ানমার থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পর টেলিনর জানিয়েছে, তারা তদন্তকারীদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, পুরো ঘটনাটি ‘পরিষ্কার’ করতে তারা সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করবে।
তবে নরওয়ে পুলিশ জানায়, টেলিনরের মিয়ানমারের ব্যবসা বিক্রির চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নজরদারি সরঞ্জাম হস্তান্তর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই লেনদেনের জন্য নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি না নেওয়ার কারণে তদন্ত চলছে।
চলতি বছরের শুরুতে সুইডেনের একটি অলাভজনক সংস্থা টেলিনরের বিরুদ্ধে একটি ‘ক্লাস অ্যাকশন ল্য সুইট’ মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, টেলিনর মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কল রেকর্ড এবং লোকেশন ডাটা সামরিক বাহিনীর কাছে সরবরাহ করেছে। এর ফলে অন্তত একজন অ্যাক্টিভিস্টের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে টেলিনর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘সামরিক অভ্যুত্থানটি মিয়ানমারের জনগণের জন্য একটি ট্র্যাজেডি ছিল, যা আমাদের এমন অসম্ভব পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছিল যে, আর কোনো ভালো বিকল্প ছিল না। সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না মানলে কর্মীরা কারাদণ্ড, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়তেন। আমরা বুঝতে পারছি যে আমাদের সামনে কোনো বাস্তব বিকল্প ছিল না এবং আমরা আমাদের কর্মীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না।’
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এখন পর্যন্ত কোম্পানির কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি বা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে তদন্তের আওতায় আনা হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন