প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিয়ানমারের সীমান্তে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ওষুধসহ তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। আটককৃত ওষুধের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম খায়রুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন এবং জানান, ব্যাটালিয়ন সদস্যরা এসব ওষুধ জব্দ করেন।
আরো পড়ুন
ইংল্যান্ডের দল থেকে সরে দাঁড়ালেন পালমার।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজারের টেকনাফের পুরাতন পল্লান পাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে হারুন মিয়া (২৬), বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উত্তর ঘুমধুম বড়ুয়াপাড়া গ্রামের বিপন বড়ুয়ার ছেলে জিদান বড়ুয়া (১৮) এবং কক্সবাজারের উখিয়ার টিএনটি এলাকার মো. জয়নালের ছেলে মো. আকছার (২৬)।
বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর তুমব্রু বিওপির একটি আভিযানিক দল সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহজনক গতিবিধির একটি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে ট্রাকের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে এসব ওষুধ পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়।
বিজিবির প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার করা ওষুধগুলো সীমান্তপথে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাকে করে পরিবহন করা হচ্ছিল। তবে উদ্ধার হওয়া ওষুধের ধরন, পরিমাণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা ওষুধ ও অন্যান্য মালামালের তালিকা প্রস্তুত ও যাচাই শেষে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তুমব্রু-ঘুমধুম সীমান্ত শুধুমাত্র ওষুধ পাচারের রুট নয়, দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে দুই দিকের অবৈধ পণ্য চলাচলের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে বিভিন্ন পণ্য পাচারের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের ঝুঁকিও রয়েছে।
সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি পথ, নদী-খাল ও জনবসতিহীন এলাকা ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে। কখনো ছোট নৌযান, কখনো মোটরসাইকেল বা ট্রাক, আবার কখনো পাহাড়ি চোরাই পথ ব্যবহার করে পায়ে হেঁটে এসব পণ্য পরিবহনের অভিযোগ পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত অর্থ আয়ের আশায় অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এসব কাজে জড়িয়ে পড়েন। আবার চোরাচালানের পেছনে থাকা মূল হোতারা আড়ালে থেকে শ্রমিক বা বাহক হিসেবে স্থানীয়দের ব্যবহার করে থাকে—এমন অভিযোগও রয়েছে। ফলে অভিযানে অনেক সময় বাহক আটক হলেও নেপথ্যের কারবারিরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্তে দুর্গম পথ ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য পাচারের প্রবণতা ঠেকাতে বিজিবির নজরদারি বাড়ানোর মধ্যেই ট্রাকভর্তি ওষুধ আটকের ঘটনা ঘটল।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালানসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন