প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রতিষ্ঠার পর ১৮ বছর অতিক্রম করার পরও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়নি।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই দেশের ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন এবং গবেষণায় অবদান রাখছেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকাতেও স্থান করে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের বিপরীতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটি কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের অভাব রয়েছে, যা সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত সহযোগিতার সুযোগকে কতটা কাজে লাগানো যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চা এবং গবেষণায় ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে।
সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে কাজ করছেন। তাদের অনেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা, গবেষণা এবং পেশাগত অঙ্গনে সাবেক শিক্ষার্থীদের এই অগ্রযাত্রা বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠলে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। অভিজ্ঞ প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মেন্টরশিপ, ক্যারিয়ারবিষয়ক পরামর্শ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে নবীনদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারবেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়নেও তাদের সম্পৃক্ততা বাড়বে। এইভাবে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি স্থায়ী সেতুবন্ধন তৈরি হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।
বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, সাবেক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগে একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ ও ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অভিন্ন নেটওয়ার্কে যুক্ত করা, তাদের কর্মক্ষেত্র ও গবেষণার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ক্যারিয়ারবিষয়ক কার্যক্রম আয়োজন করা সম্ভব হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ইইই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অহিদুল ইসলাম, বর্তমানে সিটিগ্রুপের ইউকে বাংলা সিমেন্ট লিমিটেডে ডেপুটি ম্যানেজার ও ইন-চার্জ (ইলেকট্রিক্যাল) হিসেবে কর্মরত।
তিনি বলেন, "প্রায় ১৮ বছর পার হলেও পাবিপ্রবিতে একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে না ওঠা হতাশাজনক। একটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন, চাকরির প্রস্তুতি, ইন্টার্নশিপ, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে, Outcome-Based Education (OBE) বাস্তবায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠুক, যা সব ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীর অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ ব্যাচের ইইসিই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জি এম মেহেদী হাসান বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ‘কানেক্টেড বাংলাদেশ’ প্রকল্পে সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
তিনি বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু অবকাঠামো, শিক্ষাক্রম কিংবা ডিগ্রি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সমাজ, রাষ্ট্র ও কর্মক্ষেত্রে কতটা অবদান রাখছেন, সেটিও সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ বছরের পথচলায় বিভিন্ন বিভাগের অসংখ্য শিক্ষার্থী কর্মক্ষেত্র, শিক্ষকতা, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তাদের অর্জন, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু এসব প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়, যা হতাশাজনক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন