প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা দারিদ্র্য থেকে মুক্তি চাই। ফ্যাসিস্ট সরকার কাজের চেয়ে বেশি চুরি করেছে। দুর্নীতি হয়েছে চরমভাবে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। বিগত সরকার বিআরডিবি-কে মৃত করে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, কারো ওপর নির্ভর করে নিজের অবস্থার পরিবর্তন করা যাবে না। নিজের কাজ নিজে করতে হবে। গ্রাম সরকার গঠন করলে নেতৃত্ব বিকশিত হবে। তৃণমূল থেকেই দুর্নীতিকে একেবারে না বলতে হবে। নিজে ঠিক থাকলে অন্যকে ঠিক করা যাবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে কাজ করতে হবে।
আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন মন্ত্রী।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
মন্ত্রী মন্তব্য করেন, মানুষের আয়ের পথ না বাড়লে উন্নতি হবে না। বিআরডিবির মূল কাজ হচ্ছে জনগণকে সম্পৃক্ত করা, সংগঠিত করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যে পণ্য উৎপাদন করে, সেই পণ্যের বাজার তৈরি করা।
মন্ত্রী এক্ষণে বলেন, বাংলাদেশ একটি ছোট্ট দেশ, যেখানে কম উন্নত অনেক গরিব মানুষ আছে। তিনি জানান, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান গ্রামীণ উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন এবং খাল খনন করেছিলেন। পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলন করে ক্ষমতায় এসে নারীদের শিক্ষায় কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, কথা ও কাজের মধ্যে মিল না থাকায় সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছালে দেখি রাস্তা-ঘাট ভাঙা রয়েছে এবং উন্নয়ন নেই। কিন্তু এলজিআরডিতে অনেক বাজেট ছিল। সেই টাকা কই গেল? অর্থাৎ লুটপাট হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৮ বছর পর দেশে ফিরেই ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশকে পরিবর্তন করে উন্নত করতে চান। সেজন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন শুরু করেছেন। পরিবার থেকেই উন্নয়ন ও ক্ষমতার সমন্বয় করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, ঋণ মওকুফের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নত দেশ গড়ার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, দেশ গড়তে অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বপ্রণোদিত হতে হবে। কারো ওপর নির্ভরশীল না হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে নিজেদের উদ্যোগী হতে হবে।
তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ, নিকটবর্তী দেশ, দূরবর্তী দেশ মার্কিন মুল্লুক থেকে কেউ এসে দেশের উন্নয়ন করে দিলে দেশকে সুন্দর করে দিতে পারবে না। এসব উদ্যোগ নিজেদেরই করতে হবে।
বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে এবং আস্থার জায়গা নষ্ট করেছে। সেসব থেকে বের হয়ে অন্যের হক প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। এজন্য সমবায়কে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী পরবর্তী প্রজন্মকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করার আহ্বান জানান এবং কৃষি ও খামার গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান ‘এসো দেশ গড়ি’ মেনে সকলকে কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব শওকত রশীদ চৌধুরী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন