প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে আরও একটি বড় বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা দিয়েছে কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে এখনো একটি বিশাল প্রাকৃতিক বাধা আটকে রয়েছে। এর ফলে যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসের মতো পানির ঢল নেমে আসতে পারে।
হিমালয় অঞ্চলের ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও আফগানিস্তান—এই আটটি দেশ নিয়ে কাজ করে ইসিমোড। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি হিমালয় অঞ্চলের পার্বত্য পরিবেশ, হিমবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করে থাকে।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোতে কোশি অববাহিকায় আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে পানির স্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করলে বিপুল পরিমাণ পানি, পলি ও পাথর ভোতে কোশি ও ত্রিশুলি নদী দিয়ে নিচের দিকে নেমে আসে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে গালছিতে ত্রিশুলি নদীর পানির স্তর ৯ মিটার এবং মালেকুতে প্রায় ৭ মিটার বেড়ে যায়।
অল্প সময়ে পানির এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি উজান থেকে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ নেমে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ভাটির দিকের নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকাও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ইসিমোডের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং জানান, গত বছরের বন্যায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া রাসুয়ার একই এলাকা আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। লেন্দে খোলায় একটি বরফধসকে বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে একটি বড় বাধা এখনো আটকে থাকায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে জিলং বন্দর এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় পার্বত্য অঞ্চলের ক্রায়োস্ফিয়ার—অর্থাৎ হিমবাহ ও তুষারক্ষেত্র থেকে সৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বর্তমানে স্যাটেলাইট, ভূকম্পন ও পানিবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে উজানে আটকে থাকা সন্দেহভাজন বাধাটির স্থিতিশীলতা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।
তবে ভোতে কোশি ও ত্রিশুলি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের জন্য বিপদ এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে সতর্ক করেছে ইসিমোড।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন