প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ অনিয়ম ও দুর্নীতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে এবং তারা বাংলাদেশে কোষাগার লুণ্ঠন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশি সাহায্য যা এসেছে, সবকিছু তারা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা চুরি করে তারা ফিলিপাইন নিয়ে গেছে।
রোববার (সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলায় এক অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন স্পিকার।
তিনি আরও বলেন, ফিলিপাইনে যারা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা বর্তমানে কারাগারে আছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কারও বিচার হয়নি।
স্পিকার আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর।" তিনি বলেন, "এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।"
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "যেসব অন্যায়-অবিচারের বিচার সব দেশে জনগণের চাওয়া ছাড়াই হয়। বাংলাদেশে দিনরাত কান্নাকাটি, বছরের পর বছর কান্নাকাটি করেও এই অপরাধের কোনো বিচার তাদের হয় না।"
অনুষ্ঠানে স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বনাশ করেছে লুটপাট করে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ আমলের এক প্রতিমন্ত্রী জাবেদ (সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী); তার ৩৬০টি বাড়ি লন্ডনে পাওয়া গেছে। দুবাই ও আমেরিকাতেও তার বাড়ি রয়েছে। তিনি বলেন, "সব বাংলাদেশের সম্পদ, আপনার-আমার টাকা, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে তারা এভাবে নিয়ে গেছে।"
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনে এখনও তাদের কিছু লোক রয়েছে, যার কারণে প্রকৃত চিত্র জনগণের কাছে ভালোভাবে পৌঁছাচ্ছে না।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বাংলাদেশ ভালো থাকুক, সেটা প্রতিবেশী রাষ্ট্র চায় না। তিনি বলেন, "তারা আমাদেরকে একটা করদ রাজ্য বানাবার চেষ্টা করছে।"
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আগের (আওয়ামী লীগ) সরকার ১৬-১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ না দেখে, ওই প্রতিবেশীর স্বার্থই দেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেকগুলো অসম চুক্তি হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় জাহাজ এলে অন্য সব জাহাজ, এমনকি বাংলাদেশের জাহাজগুলোকেও (বন্দর) খালি করে দিতে হবে। আগে তাদের জাহাজ আনলোড করতে হবে, তারপর এখানকার আমদানিকারকদের জাহাজ খালাস করার সুযোগ দেওয়া হবে।
স্পিকার বলেন, "তারা (ভারত) অনেক মালামাল আমাদের ভূমির ওপর দিয়ে নিয়ে যায়।" তিনি বলেন, "এই মালামালের জন্য যে শুল্ক দেওয়া উচিত, তা তারা সঠিকভাবে দেয় না। এখানে তারা বিনা শুল্কে কিংবা নামমাত্র শুল্কে তাদের পণ্য পরিবহন করছে, যেটা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। এর ফলে আমাদের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সারা বিশ্বব্যাপী শুল্ক দিয়ে মালামাল নিতে হয়।"
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "আমাদের সীমান্তে প্রতিদিন তো লোক হত্যা করছে তারা। পাকিস্তানের সঙ্গেও তাদের বর্ডার আছে। ওইখানে তো কাউকে কোনো দিন গুলি চালানো হয় না।"
স্পিকার প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি এবং এর সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন। ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জাকির হোসেন হাওলাদার, হাসান মাকসুদুর রহমান, ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন জুলফিকার প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন