প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি অর্থের প্রবাহ ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় আগস্ট মাসে আন্তঃব্যাংক বাজারের ওপর ব্যাংকগুলোর নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে তারল্য নেওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। কলমানি এবং আন্তঃব্যাংক রেপো লেনদেন সক্রিয় থাকলেও বিভিন্ন বাজারে সুদের হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে আন্তঃব্যাংক তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধির এবং বাজারভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবহার জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ব্যাংকারদের মতে, সহজ মুদ্রানীতির কারণে আগামী মাসগুলোতে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য প্রণোদনা এবং ঋণপ্রবাহ সহজ করার উদ্যোগ এর সঙ্গে যুক্ত হলে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি বাড়তে শুরু করায় বাণিজ্য অর্থায়নের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি সিকিউরিটিজের সুদহার ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিসুদের কাছাকাছি আসতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগস্টে দেশের মানি মার্কেটে তারল্য পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি অর্থের চাহিদা মেটাতে আন্তঃব্যাংক উৎসের ওপর বেশি নির্ভর করেছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কমে গেছে।
কলমানিতে লেনদেন ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা:
অগাস্টে কলমানি বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৮২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ওভারনাইট বা একদিন মেয়াদি কলমানি। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ৮৬ হাজার ৫৩০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় এ লেনদেন বেড়েছে ২ হাজার ৮ কোটি ৩ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
আগস্টে ওভারনাইট কলমানিতে সর্বনিম্ন সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। ভারিত গড় সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এক বছর আগের আগস্টের তুলনায় এ খাতের লেনদেন ১৫ হাজার ১৬৩ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৯১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ভারিত গড় সুদের হার কমেছে ৬৪ বেসিস পয়েন্ট।
কলমানির মোট লেনদেনের ৮০ দশমিক ৪৩ শতাংশই ছিল ওভারনাইট লেনদেন। ফলে স্বল্পমেয়াদি তারল্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বেশি ব্যবহার ছিল একদিন মেয়াদি অর্থের।
স্বল্প নোটিশের কলমানিতে ৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি:
দুই থেকে ১৪ দিন মেয়াদি স্বল্প নোটিশের কলমানিতেও আগস্টে উল্লেখযোগ্য গতি দেখা গেছে। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ২০ হাজার ৩৩৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় তা বেড়েছে ১ হাজার ৭৮২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বা ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। আর আগের বছরের একই মাসের তুলনায় বেড়েছে ৭ হাজার ৪২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এ খাতে সর্বনিম্ন সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ০২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ভারিত গড় সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০০ বেসিস পয়েন্ট কম।
মেয়াদি কলমানিতে বড় পতন:
অন্যদিকে ১৫ থেকে ৩৬৪ দিন মেয়াদি টার্ম কলমানিতে লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগস্টে এ খাতে লেনদেন হয়েছে মাত্র ৭১৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় তা কমেছে ১ হাজার ১৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ৫৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৮০২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ৫২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
টার্ম কলমানিতে সর্বনিম্ন সুদের হার ছিল ৯ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ। ভারিত গড় সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা এক বছর আগের তুলনায় ১১৬ বেসিস পয়েন্ট কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগস্টে কলমানি বাজারে ওভারনাইট তারল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল। স্বল্প নোটিশের অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদি আন্তঃব্যাংক তহবিলের চাহিদা তুলনামূলক দুর্বল ছিল। একই সঙ্গে আগের বছরের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি অর্থের ব্যয় কমেছে।
আন্তঃব্যাংক রেপোতে লেনদেন ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা:
কলমানির পাশাপাশি আন্তঃব্যাংক রেপো বাজারেও আগস্টে বড় ধরনের সম্প্রসারণ হয়েছে। ব্যাংকগুলোর জামানতভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের এ বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় এ লেনদেন বেড়েছে ২৮ হাজার ৯৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বা ৩৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
এর মধ্যে সাত দিন মেয়াদি রেপো সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিল। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ৫৭ হাজার ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা মোট আন্তঃব্যাংক রেপোর ৫০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একদিন মেয়াদি রেপোতে লেনদেন হয়েছে ২৯ হাজার ১২২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা মোটের ২৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
একদিন মেয়াদি আন্তঃব্যাংক রেপোতে আগের মাসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৬ হাজার ২৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা ২৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ লেনদেন বেড়েছে ১৬ হাজার ৩৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বা ১২৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ খাতে ভারিত গড় সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় ৬০ বেসিস পয়েন্ট কম।
সাত দিন মেয়াদি রেপোতে লেনদেনের পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে ১৯ হাজার ৯৬১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। আর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৫৫ হাজার ৪৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বা ২ হাজার ১৫২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ খাতে ভারিত গড় সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা এক বছর আগের তুলনায় ৮৯ বেসিস পয়েন্ট কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তঃব্যাংক রেপোর কার্যক্রম বৃদ্ধির অর্থ হলো ব্যাংকগুলো জামানতভিত্তিক আন্তঃব্যাংক অর্থায়নের ওপর বেশি নির্ভর করছে। লেনদেন বাড়লেও রেপোর সুদের হার এক বছর আগের তুলনায় কম থাকায় অর্থায়ন ব্যয় তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপো নেওয়া কমেছে:
আন্তঃব্যাংক বাজারে লেনদেন বাড়লেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো সুবিধা নেওয়া কমেছে। আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপোতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭১ হাজার ৯৪৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় তা কমেছে ১৭ হাজার ৮৪৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
এর মধ্যে একদিন মেয়াদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপোর পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ১৯৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা মোটের ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। সাত দিন মেয়াদি রেপোর পরিমাণ ছিল ৬২ হাজার ৭৪৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা মোটের ৮৭ দশমিক ২১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪ দিন মেয়াদি রেপো সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে স্থগিত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো কার্যক্রম কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভরতা আগের মাসের তুলনায় কমেছে।
স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং বেড়েছে, আমানত সুবিধা কমেছে:
আগস্টে ব্যাংকগুলোর স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি বা এসএলএফ নেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে। এ মাসে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সুবিধার আওতায় নিয়েছে ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় তা বেড়েছে ২২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
তবে আগের বছরের আগস্টের তুলনায় এসএলএফ ব্যবহারের পরিমাণ ৯৭ দশমিক ৩১ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং জরুরি তারল্য সহায়তার চাহিদা কমার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য রাখার জন্য ব্যবহৃত স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি বা এসডিএফে আগস্টে জমা হয়েছে ৯২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। আগের মাসের তুলনায় এটি কমেছে ১১ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এসডিএফ ব্যবহার বেড়েছে ২৪৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
বিশেষ তারল্য সহায়তায় ৯০ হাজার কোটি টাকা:
আগস্টে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সুবিধা ও ইসলামী ব্যাংক তারল্য সুবিধার আওতায় মোট ৯০ হাজার ৫২৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আগের মাসের তুলনায় এ অর্থায়ন বেড়েছে ১০ হাজার ২৭৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা বা ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ।
এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি বা আইবিএলএফের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৭২৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। অ্যাসিউরড রেপোর আওতায় দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৭১০ কোটি ১২ লাখ টাকা। মুদারাবা লিকুইডিটি সাপোর্ট ছিল ১ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা এবং বিশেষ তারল্য সহায়তা বা এসএলএস ছিল ২ হাজার ২১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ক্যাপিটাল মার্কেট রেপোর পরিমাণ ছিল ৫৩৯ কোটি টাকা।
তবে এক বছর আগের আগস্টের তুলনায় বিশেষ তারল্য সুবিধা ও আইবিএলএফের ব্যবহার ২৩ দশমিক ২৯ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম হয়নি:
আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম আয়োজন করেনি।
অন্যদিকে সরকার ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ঋণ সংগ্রহে সক্রিয় ছিল। আগস্টে ট্রেজারি বিলের পাঁচটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামের মাধ্যমে মোট ৪৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ হাজার কোটি টাকা বা ২ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি।
ট্রেজারি বিলের সুদে বড় পতন:
আগস্টে স্বল্পমেয়াদি সরকারি সিকিউরিটিজের সুদের হার বা কাট-অফ ইয়িল্ডে ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের কাট-অফ ইয়িল্ড মাসের শুরুতে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ থাকলেও ৩০ আগস্ট তা কমে ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ মাসের মধ্যে এ হার ৫৭ বেসিস পয়েন্ট কমেছে।
১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের কাট-অফ ইয়িল্ড ২ আগস্টের ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ থেকে ৩০ আগস্টে ৮ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমেছে। একইভাবে ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের কাট-অফ ইয়িল্ড ৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, তিন ধরনের ট্রেজারি বিলের ইয়িল্ড কমে আসা স্বল্পমেয়াদি সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারে অর্থায়ন ব্যয় কমার এবং সরকারি সিকিউরিটিজের প্রতি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
আন্তঃব্যাংক অর্থায়নে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো:
আগস্টের মানি মার্কেটের সামগ্রিক চিত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। কলমানি বাজার সক্রিয় থাকলেও আন্তঃব্যাংক রেপোর লেনদেন আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে আন্তঃব্যাংক রেপোর কার্যক্রম কলমানির লেনদেনকে ছাড়িয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপোর ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি সহায়তার পরিবর্তে আন্তঃব্যাংক বাজারভিত্তিক অর্থায়নের দিকে ঝোঁক স্পষ্ট হয়েছে।
প্রতিবেদনের সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগস্টে দেশের মানি মার্কেট সক্রিয় ছিল। কলমানি ও আন্তঃব্যাংক রেপোতে শক্তিশালী লেনদেন হয়েছে। বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপোর ওপর নির্ভরতা কমেছে। কলমানি বাজারে একদিন মেয়াদি লেনদেনের আধিপত্য বজায় থাকলেও আন্তঃব্যাংক রেপোতে তুলনামূলক দীর্ঘ স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবহার বেড়েছে।
সব মিলিয়ে আগস্টে দেশের স্বল্পমেয়াদি অর্থবাজারে তারল্য প্রবাহ তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। ব্যাংকগুলোর মধ্যে অর্থের আদান-প্রদান বেড়েছে, জামানতভিত্তিক আন্তঃব্যাংক অর্থায়নের ব্যবহার জোরদার হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভরতা আগের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মানি মার্কেট সুদের হার আগের বছরের তুলনায় নিচে অবস্থান করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এসব প্রবণতা দেশের মানি মার্কেটে আন্তঃব্যাংক তারল্য সঞ্চালন উন্নত হওয়া এবং বাজারভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবহার বৃদ্ধির প্রতিফলন।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হলেও আন্তঃব্যাংক বাজারে লেনদেন বাড়ার বিষয়টিকে এককভাবে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও ঋণচাহিদা বৃদ্ধির লক্ষণ হিসেবে দেখা যাবে না। বরং ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনা, এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি অর্থ নেওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তার পরিবর্তনও এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন