প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালী, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামীকাল কুয়াকাটায় শুরু হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’, যা দীর্ঘ নয় বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই উৎসব উপলক্ষে বিচ ফুটবল, ক্রিকেট, ম্যারাথন, ঘুড়ি ও পিঠা উৎসব, ফ্যাশন শো, সংগীতানুষ্ঠান এবং চরাঞ্চল ভ্রমণের আয়োজন করা হবে।
আয়োজকরা কুয়াকাটা সৈকতে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগমের আশা করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান জানান, টানা ছুটি এবং কার্নিভালের কারণে এবার পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটকের আগমন হতে পারে। এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সৈকতজুড়ে নানা প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও জানান, এবারের আয়োজনে নতুন আকর্ষণ যুক্ত করা হয়েছে যা গতানুগতিকতার বাইরে। বিনোদন, খেলাধুলা, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং পর্যটন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দর্শনার্থীদের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কার্নিভালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ড অংশগ্রহণ করবে, যেখানে নান্দনিক স্টল এবং ফটো বুথ থাকবে। বিউটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে রিমার্ক-হারল্যান, যা তাদের বিউটি ও পার্সোনাল কেয়ার ব্র্যান্ডের পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এতে উৎসবের বিনোদন এবং লাইফস্টাইলভিত্তিক আয়োজন আরও বৈচিত্র্যময় হবে।
কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থানীয় ঐতিহ্যকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরাও এবারের কার্নিভালের অন্যতম লক্ষ্য। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত এই সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি লেম্বুর বন, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, রাখাইন পল্লি এবং বৌদ্ধ মন্দির পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। দর্শনার্থীরা স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
কার্নিভালে বিচ ফুটবল ও বিচ ক্রিকেটের মতো ক্রীড়া আয়োজনের পাশাপাশি বিচ ম্যারাথন, ঘুড়ি উৎসব এবং পিঠা উৎসবও থাকবে। ফ্যাশন শো, সংগীতানুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চল ভ্রমণের আয়োজন পর্যটকদের সমুদ্রসৈকতের বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং স্থানীয় জীবনধারা সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেবে।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এই কার্নিভাল কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরবে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং স্থানীয় পণ্য বিক্রিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় ঐতিহ্য, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমন্বয়ে কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬ পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে এবং দেশের পর্যটন খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন