প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর উদ্দেশ্যে বেশ কিছু দালাল একতাবদ্ধ হয়েছিল। স্থানীয় জনতার তোপের মুখে পড়ার কারণে তারা পালিয়ে যায়। ৭ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যখন বড়জোড়া গ্রামের ‘ধ্বংসের মোড়’ এলাকায় তারা কার্যক্রম চালাচ্ছিল। জনতা বাধা দেওয়ার সময় চক্রের সদস্যরা ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং সরঞ্জাম রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তর করতে গেলে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা সরকারি ফি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে এবং অফিসিয়াল প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে কমপক্ষে এক মাস। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও মোটা অঙ্কের টাকা ফাঁকি দেওয়ার জন্য বড়জোড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান তসলিম মিয়ার ২০ হাজার টাকার একটি রফাদফা হয়। চুক্তি অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় অবৈধভাবে খুঁটি স্থানান্তরের কাজ শুরু করে তসলিম মিয়া পল্লী বিদ্যুত অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে। দালাল চক্রটি প্রথমে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় সহজ পন্থায় খুঁটিটি সরানোর জন্য। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় এলাকার মানুষের মনে সন্দেহ জন্মায় এবং তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে চক্রটির অবৈধ কর্মকাণ্ড হাতে ধরে বাধা দেয়। জনতার বাধার মুখে খুঁটির নিচে থাকা দুই দালাল তাৎক্ষণিকভাবে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। ওই সময় খুঁটির ওপরে কাজ করা এক লাইনম্যান আটকা পড়লেও পরে সে অন্ধকারে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনাস্থলে খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত পৌঁছে গিয়ে দালাল চক্রের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলসহ খুঁটি স্থানান্তরের কিছু সরঞ্জাম জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম অনিতা বর্ধন বলেন, ‘রাতের আঁধারে খুঁটি স্থানান্তরের কোনো নিয়ম নেই। ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, সেখানে আমাদের কোনো লোক দায়িত্বে ছিল কি না এবং খুঁটি স্থানান্তরের অনুমোদন ছিল কি না- এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে যদি কারো অনিয়মের প্রমাণ মিলে, তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম জানান, এই অবৈধ চক্রের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন