প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কানাডায় এ বছরে দাবানলের মতো চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার সৃষ্টির আশঙ্কা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।
এই তথ্য বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) প্রকাশিত একটি গবেষণায় জানানো হয়েছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মৌসুমের শুরুতে দাবানলের তৎপরতা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল। তবে জুলাই মাস থেকে দীর্ঘস্থায়ী গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্টারিও এবং নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিজ।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৮ লাখ হেক্টরেরও অধিক এলাকা পুড়ে গেছে। এর ফলে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পাশাপাশি বিপজ্জনক মাত্রার ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসেছে কোটি মানুষ।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) গ্রুপের গবেষকরা জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পর্যবেক্ষণ তথ্য ও জলবায়ু মডেল ব্যবহৃত করেছেন।
তারা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে একটি এমন পৃথিবীর তুলনা করেন, যা প্রাক-শিল্প যুগে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়ন না ঘটলে দৃশ্যমান হত।
গবেষণায় অন্টারিও ও নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিজে সবচেয়ে ভয়াবহ সাত দিন ও ৩০ দিনের ‘ফায়ার ওয়েদার’ বা দাবানল-অনুকূল আবহাওয়ার সময়কাল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এতে দেখা যাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিজে এটি প্রতি ২ থেকে ৬ বছরে একবার এবং অন্টারিওতে প্রতি ৬ থেকে ১৫ বছরে একবার ঘটতে পারে।
ডব্লিউডব্লিউএ জানায়, যদি জলবায়ু পরিবর্তন না হত, তখন এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতি ৪০ বছরে একবার দেখা যেত। তথাপি শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, চলতি বছরের মতো দাবানল-অনুকূল আবহাওয়া বর্তমান জলবায়ুতে বিরল নয়।
গবেষণার প্রধান লেখক থিওডোর কিপিং বলেন, ২০২৩ সালের পর থেকে কানাডায় যে দাবানল দেখা গেছে, তা ব্যাপ্তি ও তীব্রতার দিক থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন। তিনি উল্লেখ করেন, দাবানল যেভাবে ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তা উদ্বেগজনক। এটি দেখাচ্ছে যে, দাবানল মোকাবিলার প্রস্তুতি থাকলেও শুধুমাত্র অভিযোজন যথেষ্ট নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরণের ঘটনার আরও ভয়াবহ পরিণতি ঠেকাতে আমাদের দ্রুত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসতে হবে।’
গবেষণায় বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা শোষণক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার কারণে জৈব পদার্থ দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ঘন ঘন এবং আরও তীব্র দাবানলের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন