প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াকে ডেকে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ জানার জন্য অনুরোধ করেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘আজেল নিউজ’ এই তথ্য জানিয়েছে।
মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াকে ডেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ জানার জন্য অনুরোধ করা হয়।
এর আগে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ তথ্য সরকারের কাছে ছিল না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কিছুই জানত না।
সৌদি আরবের নিজস্ব আইন ও বিচারিক কাঠামো রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশটিতে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় বাংলাদেশের করণীয় অনেক ক্ষেত্রে সীমিত থাকে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রবাসীদের জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন- নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর ও সিথি আক্তার।
এর আগে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ লিপ্ত থাকার অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কার্যকর করা হয়।
তবে কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদগুলোর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পবিত্র স্থানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা বা সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন