প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে হত্যাকাণ্ডসহ ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা। চলতি বছরের বিগত ছয় মাসে জেলা ও মহানগরে অন্তত ৩১টি খুনের ঘটনা ঘটে গেছে। একই সময়ে ৭৯টি ধর্ষণ এবং ২৭৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই সকল তথ্য সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপত্তার অভাবকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত অপরাধ দমন ব্যবস্থা জোরদার না হলে এই সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এদিকে প্রতি মাসে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত বরিশাল জেলা ও মহানগর এলাকায় ৩১টি খুন, ৭৯টি ধর্ষণ, ২৭৮টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ১৩৮টি চুরি ও সিঘল চুরি, ৬৩৮টি মাদকসংক্রান্ত অপরাধসহ মোট ২ হাজার ১৪১টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এরমধ্যে জানুয়ারিতে ২৭৫টি অপরাধের মধ্যে ছিল ৬টি খুন, ১৭টি চুরির ঘটনা ও সিঘল চুরি, ৩৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ১১টি ধর্ষণ, ৩টি ডাকাতি এবং ৮১টি মাদকসংক্রান্ত মামলা। ফেব্রুয়ারিতে ২৬৮টি অপরাধের মধ্যে ছিল ৩টি খুন, ১৮টি চুরি, ৩৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ১০টি ধর্ষণ এবং ৫৫টি মাদকসংক্রান্ত ঘটনা।
মার্চে অপরাধ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪৭টিতে। এ মাসে ৬টি খুন, ৩৩টি চুরি, ৩১টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ৮টি ধর্ষণ এবং ১০৬টি মাদকসংক্রান্ত অপরাধের তথ্য উঠে আসে। এপ্রিলে মোট ৩৯২টি অপরাধের মধ্যে ছিল ৫টি খুন, ২৯টি চুরি, ৫২টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ১৬টি ধর্ষণ এবং ১০৪টি মাদকসংক্রান্ত ঘটনা।
সবচেয়ে বেশি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে মে মাসে। এ সময়ে অপরাধ সংঘটিত হয় মোট ৪৫৮টি। এর মধ্যে ছিল ৬টি খুন, ২৩টি চুরি, ৭১টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ২০টি ধর্ষণ এবং ১৫৮টি মাদকসংক্রান্ত অপরাধ। জুন মাসে ৪০১টি অপরাধের মধ্যে ছিল ৫টি খুন, ১৮টি চুরি, ৫৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ১৪টি ধর্ষণ এবং ১৩৪টি মাদকসংক্রান্ত অপরাধ।
পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা হয় সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বরিশাল নগর সম্পাদক মো. রফিকুল আলমের সাথে। অপরাধের চিত্র দেখে তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা মে মাসে সর্বাধিক ৭১টি। একই মাসে ধর্ষণের ঘটনাও সর্বাধিক ২০টি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ১৫৮টি। এমন পরিস্থিতি আসলেই ভয়াবহ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এমন অবস্থায় কঠোর হতে হবে। এর কোন ধরনের বিকল্প তিনি দেখছেন না। যত দ্রুত সম্ভব অপরাধিদের আইন এর আওতায় আনাটা জরুরি তেমনি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বাড়ানো উচিত। অপরাধ কমাতে জনগণকে সচেতন করতে হবে এবং অপরাধীদের কঠোরভাবে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যেন কোন ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি না হয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু আল রায়হান বলেন, অপরাধ যেভাবে বাড়ছে তাতে মামলার সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এইসব তথ্য সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপত্তার অভাবকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ভূমিকায় না থাকলে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাবে। এতে যেমন সামাজিক স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়বে, তেমনি বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হওয়ার কোন বিকল্প নেই।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন খন্দকার বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ দমনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন