প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের নিট পরীক্ষার একটি অনিয়মের কারণে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লি উত্তাল হয়ে উঠেছে।
পরীক্ষাসংক্রান্ত কেলেঙ্কারির পর যেন জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ভারতীয় পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় এমপিদের সমর্থন পেয়ে আরো ভয়াবহ স্তরে পৌঁছেছে।
রাজধানী নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে বুধবার (২২ জুলাই) অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হয়েছেন, যা একটি বিশাল জমায়েতের রূপ নিয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। এখন এটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবি করছে। খবর এএফপির।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো সিজেপির আন্দোলন ভারতজুড়ে ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদির পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা রাজধানী ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা যন্তর মন্তর ছাড়ব না। যে দেশে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছিল, সরকারের সমালোচনা করাকে দেশদ্রোহিতা বলা হতো, আমরা এখন সেই দেশকে জাগিয়ে তুলেছি।"
বেশিরভাগ তরুণ এবং শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন মঙ্গলবার বিরোধী দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার পর মোদি সরকারের জন্য একটি বড় সংকট তৈরি করেছে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সোমবার (২০ জুলাই) আন্দোলনকারীদের ওপর যে পুলিশি দমনপীড়ন চালানো হয় এর জন্য সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাহুল গান্ধীকে প্রতিবাদস্থল থেকে তুলে নিয়ে দুই ঘণ্টা আটকে রেখেছে পুলিশ। বুধবার কালো পোশাক পরে পার্লামেন্টে উপস্থিত হয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, তরুণেরা যখন রাজপথে আন্দোলন করছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
এই বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে গত মে মাসে, যখন দেশের প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত আদালতে শুনানির সময় তরুণদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা এবং ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসাবে বেকারত্ব ও সরকারি অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে ককরোচ জনতা পার্টি।
সোমবার বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারগ্যাস প্রয়োগ করে। এই ঘটনার জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনলাইন মূল্যায়নে অনিয়মের ফলে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হলে বিক্ষোভের আগুন আরো উস্কে ওঠে।
সাধারণ পরিস্থিতির উত্তাপ বুঝে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সংস্কার এবং আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখন আন্দোলন দিল্লি ছাড়িয়ে মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও গোয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বমোট পরিস্থিতিতে চাপের মুখে থাকা সরকার কিভাবে এই অচলাবস্থার সমাধান করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন