প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যেভাবে অভিভাবকরা শিশু শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছে দেন, অনেকটা সেরকমভাবে মন্দির প্রাঙ্গণে একটি মেলা বসেছে। গেটের সামনে পুরুষ সদস্যরা নারী ও শিশুদের নামিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর সুজাপুর সার্বজনীন মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই মেলায় কোনো পুরুষের প্রবেশ নেই। কারণ, এটি শুধুমাত্র নারীদের জন্য। পুরুষ সদস্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় এর নাম ‘বউমেলা’, যা ৭০ বছর ধরে হয়ে আসছে। প্রতিবছর কালীপূজার পরের দিন এই বউমেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এবারও প্রতিবছরের মতো বউমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) মূল মেলা দুপুরের পর শুরু হয়েছে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন বাহনে পুরুষ সদস্যরা নারী ও শিশুদের নিয়ে মেলার সামনে আসছেন। তারা গেটের সামনে নামিয়ে দিয়ে কেউ ফিরে যাচ্ছেন, আবার কেউ মেলা প্রাঙ্গণের বাইরে অপেক্ষা করছেন।
মেলায় শতাধিক দোকানপাট বসেছে। সেখানে কেবল নারীদের প্রসাধন সামগ্রী, তৈজসপত্র, শিশুদের খেলনা, গৃহসজ্জাসহ নানা পণ্য ও বাহারি খাদ্যসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। যদিও পুরুষদের প্রবেশাধিকার নেই, তবুও দোকানিদের মধ্যে কিছু পুরুষ রয়েছেন। তবে পুরুষ দর্শনার্থীদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
মেলার বাইরে অনেক উৎসুক পুরুষকে দেখা যায়। তাদের মধ্যে নব বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে মেলায় এসেছেন তমাল দাস। তিনি জানান, “মেলায় স্ত্রীকে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছি।”
সুজাপুর গ্রাম থেকে আসা আশা রানী বলেন, “এই মেলা আমাদের নারীদের জন্য। ফলে একটা আলাদা অনুভূতি কাজ করে। এ উপলক্ষে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজনও আসেন। মেলায় তাদের সঙ্গে দেখা হয়, ভাব বিনিময় হয়।”
বিউটি সরকার বলেন, “আমরা অনেক কিছু কেনাকাটা করলাম। ভালো লাগে এই মেলায়। প্রতিবছর অপেক্ষায় থাকি এই মেলার জন্য। তবে স্বামীকে বাইরে রেখে আসতে হয়।”
বালা রানী দাসের বক্তব্য হলো, “মেলায় এসেছি। এ মেলা শুধু মেয়েদের জন্য।” তিনি বলেন, “আমার দাদার সঙ্গে এসেছি, তবে দাদা বাইরে আছেন; আমাকে আবার বাড়িতে নিয়ে যাবেন।”
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা হরমুজ আলী (৮০) জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে এ মেলায় হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, “মেলায় দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শুধু নারীরা প্রবেশ করতে পারেন। তবে রাতে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।”
মেলার প্রধান ফটকে কয়েকজন পুরুষ দর্শনার্থীর সঙ্গে কথা হয়। শিবেন সরকার তাদের একজন। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে এসেছি। তাদের ভেতর দিয়ে আমি অপেক্ষা করছি। বাইরে থাকলেও আমরা পুরুষরা বেশ উপভোগ করি এই মেলা।”
অরুণ রায় বলেন, “আমরা মেলায় এক প্রকার পাহারা দিই, যাতে বাইরের কোনো পুরুষ ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।” তিনি বলেন, “এই একটা দিন নারীদের স্বাধীনভাবে মেলায় প্রবেশ করে ইচ্ছেমতো ঘোরার দিন। তাদের প্রাধান্য দিতে পেরে আমাদেরও ভালো লাগে।”
সুজাপুর সার্বজনীন দুর্গাপূজা ও বউমেলা আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজন সরকার জানান, “প্রায় ৭০ বছর ধরে এই বউমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। জমিদার ক্ষিতীশ সরকার রায়ের সময় চাঁদপাড়ায় এ মেলার আয়োজন করা হতো। তখন দুর্গামন্দিরটিও সেখানে ছিল।”
সুজন সরকার বলেন, “দুর্গাপূজার পাঁচ দিন পর লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ্মীপূজার পরদিন বসে ঐতিহ্যবাহী এই বউমেলা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য আমরা ধরে রেখেছি।”
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ শহিদুল ইসলাম বলেন, “মেলার নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সব বিষয়ে তদারকি রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন