প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় রোপা আমন মৌসুমে এবারও ভালো ফলন পাওয়া গেছে। কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণ, আবাদ পদ্ধতির পরিবর্তনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে পাকা ধান কাটার কাজ শুরু হয়েছে। গত রোববার দুপুরে, ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের তকিরাই গ্রামের মাঠে রোপা আমন ধান কাটার উদ্বোধন করেন।
স্থানীয় কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে রোপা আমন মৌসুমে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ১২ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এসব জমি থেকে প্রায় ৪০ হাজার টন ধান উৎপাদন হবে। গত বছর ১২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ করা হয়েছিল।
এবার উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার কৃষক রোপা আমন চাষাবাদ করেছেন। তবে, কৃষি বিভাগ আশঙ্কা করছে যে, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে কিছু জমিতে চলতি রোপা আমন মৌসুমের ফলন কম হতে পারে।
উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের তকিরাই গ্রামের ফসলের মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা কাস্তে হাতে মাঠে কাজ করছেন। ধান কেটে অনেকে ফসলের মাঠেই মাড়াই-ঝাড়াইয়ের কাজ সম্পন্ন করছেন। নারীরাও ধান শুকানোর কাজে সমানভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এ গ্রামের কৃষক জয়নাল মিয়া জানান, ‘আমি এবার মোট ৩০ বিঘা জমিতে রোপা আমনের চাষাবাদ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, এবারের ফলন খুব ভালো হয়েছে। ধানের ভালো ফলনে এলাকার কৃষকরা আনন্দিত।’ তিনি বলেন, ধানের চারা রোপণের পর থেকে নিয়মিত কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা পেয়েছেন। আরেক কৃষক সুজন মিয়া বলেন, ‘এবার আমাদের ধানের চারা রোপণের খরচ এবং পরিশ্রম সবই সার্থক হয়েছে। উৎপাদিত আমন ধান বিক্রির সময় ভালো দাম পেলে আশা করছি বছরটা স্বস্তিতে কাটাব।’ অধিকাংশ কৃষক আমনের ফলন নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধান রোপণের আগে দুই হাজার কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত বীজ সরবরাহের পাশাপাশি উপকারভোগী প্রতি কৃষককে বিঘাপ্রতি ৫ কেজি ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিওপি এবং ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পাঁচ শতাধিক কৃষককে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় রোপা আমন ক্ষেত প্রদর্শনীর জন্য উন্নত জাতের বীজ, ইউরিয়া সার এবং সমপরিমাণ ডিওপি ও এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌফিক হোসেন খান বলেন, কৃষিতে ফলন বাড়াতে সব সময় মাঠের কৃষকদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রাংশ ও ভর্তুকিমূল্যে ধান কাটার মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি জানান, এবারের আমন মৌসুমে আবহাওয়া অনেকটাই অনুকূলে ছিল। তবে, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে কিছু কিছু স্থানে ধানের ফলন কম হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন