প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জলবায়ু সংকট বর্তমান সময়ের অন্যতম বৃহৎ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সমগ্র মানবজাতির জন্য। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিকে টেকসই, আধুনিক এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্ব পরিবেশ ও জলবায়ু দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
শুক্রবার, সারা বিশ্বের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে ৫ জুনকে মনে করা হয়, যা বিশ্ব পরিবেশ ও জলবায়ু দিবস হিসেবে পালিত হয়। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৪ জুন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপদাহ, বৃষ্টি-পাতের অনিয়ম, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতির মতো বিষয়গুলো বিশ্বজুড়ে পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে।
প্রধানমন্ত্রী এই সময়ে আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত আজকের দিনে বিশ্ববাসীর জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, এর প্রেক্ষাপটে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে আসছে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য 'ক্লাইমেট অ্যাকশন' বিশ্বজুড়ে জলবায়ু উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
বাংলাদেশ, যদিও তেমন বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে না, তবুও এর ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স-২০২৬ অনুসারে বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকিতে রয়েছে। লবণাক্ততার বৃদ্ধি, কৃষির উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা দেশের উন্নয়নে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বিবৃতিতে জানান, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সমন্বিত ও দূরদর্শী নীতি কাঠামো গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুত জনগণের পুনর্বাসন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু-সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। একই সময়ে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে, পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার পাশাপাশি বাড়ানোর কথা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও কার্বন ক্রেডিট এবং বৈশ্বিক কার্বন বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান।
সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ, বাসযোগ্য এবং জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব—এটি সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় বলে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন