প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ক্রমাগত শক্তি বাড়াচ্ছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি তীব্র থেকে অতি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
ভোর সাড়ে ৫টার তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে, ওড়িশার গোপালপুর থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে।
স্থানীয় আবহাওয়াবিদদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে এটি খানিক বাঁক নিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পুদুচেরীর ইয়ানাম উপকূলের বাপটলা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ‘অর্ণব’র। আছড়ে পড়ার সময় অন্ধ্র উপকূলে ঘণ্টায় ১১৫-১২৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৪০ কিলোমিটার হতে পারে।
এখন পর্যন্ত অন্ধ্রের চারটি জেলায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। এই জেলাগুলি হলো- অনকাপল্লী, শ্রীকাকুলম, বিশাখাপত্তনম এবং বিজয়নগরম। উদ্ধারকাজে গতি আনতে কাকীনাডা, কোনাসীমা, রাজামুন্দ্রি, এলুরু, মছলিপত্তনম এবং নাকাপল্লীর মতো স্থানে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) একাধিক দল মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ইয়ানাম, কৃষ্ণা এবং বিশাখাপত্তনমেও মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মঙ্গল এবং বুধবার অন্ধ্রে ৫৩টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে বিজয়ওয়াড়া, রাজামুন্দ্রি, কাকীনাডা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী একাধিক ট্রেনের পরিষেবা এই দু’দিন পাওয়া যাবে না। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৮টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে ওড়িশাতেও। উল্লেখযোগ্য ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশাখাপত্তনম-কোরাপুট প্যাসেঞ্জার এবং বিশাখাপত্তনম-কিরন্ডুল প্যাসেঞ্জার। যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশাখাপত্তনমে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খুলেছে দক্ষিণ উপকূলীয় রেলওয়ে।
মূলত অন্ধ্র লাগোয়া দক্ষিণ ওড়িশায় ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে। বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, মালকানগিরি, কোরাপুট এবং নবরংপুর জেলায়। এই ছয় জেলায় মঙ্গল এবং বুধবার সমস্ত স্কুল-কলেজ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মঙ্গল এবং বুধবার সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে আন্দামান ও নিকোবর প্রশাসন। আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ওড়িশা রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং এনডিআরএফ-এর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। নিচু এবং বিপদসঙ্কুল এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই বাসিন্দাদের ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিঁ বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার জন্য আট মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
‘অর্ণব’র প্রভাব পশ্চিমবঙ্গ উপকূলেও পড়তে চলেছে। উপকূল সংলগ্ন জেলাগুলিতে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল হতে পারে। মৎস্যজীবীদের জন্য আলিপুর আবহাওয়া দফতর বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র মঙ্গলবার থেকে উত্তাল হতে শুরু করবে। ঢেউ ‘অতি উত্তাল’ হয়ে উঠতে পারে। তাই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার ভারি বৃষ্টি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) হতে পারে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে। এই চার জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও ঝোড়ো হাওয়া বইবে, সঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও গভীর নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার কটালের কারণে নদী ও সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা-সহ উপকূলীয় অঞ্চলের ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানা, গঙ্গাসাগর কোষ্টাল থানা, গোবর্ধনপুর কোষ্টাল থানার পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে মাইকে প্রচার শুরু হয়েছে। মৎস্যজীবীদের জন্য সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার সকল মৎস্যজীবীদের নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সাগর, নামখানা-সহ উপকূলীয় এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।
উপকূলবর্তী না হওয়া সত্ত্বেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বিহার এবং উত্তর প্রদেশেও পড়তে পারে। পূর্ব উত্তর প্রদেশ এবং বিহারে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। এই বিষয়ে দুই রাজ্যকে সতর্ক করেছেন ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথন।
সূত্র: আনন্দবাজার
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন