প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে গত কয়েক দশক ধরে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কৌশলগত, কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। তবে সম্প্রতি ইসরায়েলি-আমেরিকান রাব্বি ইউসেফ মিজরাহি এই সম্পর্ককে কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হলে ইহুদিদের উচিত ভারতের পরিবর্তে পাকিস্তানকে সমর্থন করা।
একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে রাব্বি মিজরাহিকে ভারত ও হিন্দুধর্মের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে দেখা যায়। তিনি যুক্তি দেন, ইহুদি ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী মূর্তিপূজকদের বর্জন করে একেশ্বরবাদীদের পক্ষ নেওয়া উচিত।
গত ৩ নভেম্বর প্রদত্ত ‘নির্বাচন ও বর্তমান ঘটনা’ শীর্ষক এক লেকচারে তিনি তোরাহ ও অন্যান্য ইহুদি শাস্ত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন যে মূর্তিপূজকদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। তাই, ইহুদিদের পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া উচিত। তিনি স্বীকার করেন যে পাকিস্তানের সাথে ইসরায়েলের বৈরী সম্পর্ক রয়েছে, তবে ধর্মের স্বার্থের কাছে রাজনৈতিক বা কৌশলগত মিত্রতা গৌণ হওয়া উচিত।
তার ভাষায়, “যদি ইহুদিদের ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হয়, তবে পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া উচিত। এটি পাকিস্তান ইসরায়েলকে সমর্থন করে বলে নয়, বরং মূর্তিপূজা বনাম বিশুদ্ধ একেশ্বরবাদের ধর্মীয় নীতিগত পার্থক্যের কারণে।”
মিজরাহি এমন সময়ে এই বক্তব্য দিয়েছেন যখন গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে চাপের মুখে রয়েছে এবং ভারত তার সমর্থন বজায় রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্য ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
অনেক ভারতীয় ব্যবহারকারী ইসরায়েলের সাথে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তুলেছেন, “এটি কেমন বন্ধুত্ব?” তবে অনেকেই একে কেবল “একজন কট্টরপন্থীর” ব্যক্তিগত মতবাদ হিসেবে দেখছেন এবং গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
রাব্বি ইউসেফ মিজরাহি যে এবারই প্রথম হিন্দুধর্মের কুসংস্কার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন তা নয়। গত মাসেও তিনি হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস ও গো-পূজা নিয়ে চরম তুচ্ছতাচ্ছিল্য মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটিতে মিজরাহিকে তাঁর ফেসবুক পেজে কাজ করা এক ভারতীয় হিন্দু ব্যক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তি ইহুদি ধর্ম (জুডাইজম) গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেই ব্যক্তির পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি বর্ণনা করতে গিয়ে মিজরাহি হিন্দুদের বিতর্কিত গো-সেবা ও শ্রদ্ধার সংস্কৃতি নিয়ে চরম উপহাস করেন। তার উপহাসমূলক বক্তব্যের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ভারত ও ইসরায়েলসহ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
তিনি দাবি করেন, কিছু হিন্দু পরিবার তাদের শোবার ঘরে গরু ঢুকতে দেয় এবং তারা মেঝে থেকে গোমূত্র চেটে পান করে। এমনকি ভারতীয় ফার্মেসিগুলোতে ওষুধ হিসেবে গোমূত্র বিক্রি হয় উল্লেখ করে তিনি তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, এসব আচার-অনুষ্ঠান যারা মেনে চলেন তাদের মধ্যে চিকিৎসকও রয়েছেন।
দিল্লির রাস্তায় গরু বসে থাকার দৃশ্য এবং যানজট নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করার পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশ ছিল, যখন তিনি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন—“ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে ভারতীয়দের মতো বানাননি।”
সর্বশেষ ৩ নভেম্বরের বক্তব্যে তিনি ভারতের সাথে ইসরায়েলের বিশাল অস্ত্র চুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও ধর্মীয় নীতিকে সব ধরনের রাজনৈতিক বন্ধুত্বের ঊর্ধ্বে রাখার কথা জোর দিয়ে বলেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন