প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিকদের এই অবকাঠামোটি ভাঙতে দেখা যায়। তবে এর পেছনে কারা দায়ী বা কী উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হচ্ছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি দপ্তরই স্পষ্টভাবে উত্তর দিচ্ছে না। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তীব্র বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে যারা এই ভাঙার কাজ করছেন, তারা সরাসরি কোনো সদুত্তর না দিয়ে ঝিনাইদহ পৌর কর্তৃপক্ষের দিকে আঙুল তুলছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান সম্পূর্ণ দায় অগ্রাহ্য করে বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। জেলা প্রশাসক দপ্তর থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।"
তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একই কথা বলেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ভাস্কর্য অপসারণের বিষয়ে তাদের বিভাগে কিছুই জানানো হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছেন, "জেলা প্রশাসন এই স্থাপনাটি ভাঙছে না। আমি দায়িত্ব গ্রহণের অনেক আগে থেকেই ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়ার একটি সিদ্ধান্ত ছিল। সম্ভবত সড়ক বিভাগ বা পৌরসভা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।"
তবে তিনি আরও বলেন, "আমরা বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতি রক্ষার্থে জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে তাঁর একটি নতুন প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনা করছি।"
অন্যদিকে, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম মাজিদ জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভাস্কর্যটি একাধিকবার ভাঙচুরের শিকার হয়েছিল। এছাড়া, এটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে বর্তমানে ঠিক কারা এই ভাঙার কাজটি পরিচালনা করছে, তা তারও জানা নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, "জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলায় আমি গত কয়েক দিন ধরে ঢাকায় আছি। এলাকায় কী হচ্ছে বা কেন চত্বরটি ভাঙা হচ্ছে, তা আমার জানা নেই।"
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভা শহরের প্রবেশমুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মরণে এই চত্বরটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত রূপ পায়নি।
দেশের প্রতিটি জেলায় এমন ভাস্কর্য বা স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে যা আমাদের গৌরব ও ঐতিহ্য বহন করে। বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিবিজড়িত চত্বরটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে, অথচ সাধারণ মানুষ জানতেই পারছে না কেন এবং কারা এটি করছে।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান আমাদের জাতীয় বীর। এই চত্বরটি থাকলে নতুন প্রজন্ম তাঁর বীরত্ব ও আত্মত্যাগের গল্প জানতে পারতো। এভাবে জাতীয় বীরের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বেদনাদায়ক।
১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তঘাঁটি দখলের লড়াইয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে শহীদ হন অকুতোভয় সিপাহী হামিদুর রহমান। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া এই সূর্যসন্তানকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। অথচ তাঁর নিজ জেলাতেই তাঁর স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে এমন উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ সর্বস্তরের মানুষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন