প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিড়াল শুধুমাত্র মানুষের প্রিয় পোষ্য নয়, বরং বহু বছর ধরে মানুষের আশপাশে বসবাসকারী একটি পরিচিত প্রাণীও। তবে সব বিড়ালের জীবন নিরাপদ আশ্রয়ে কাটে না। অনেক বিড়াল রাস্তাঘাটে খাবার, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার অভাবে বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়। বিড়ালের সুরক্ষা, কল্যাণ এবং তাদের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করতেই পালিত হয় বিশ্ব বিড়াল দিবস।
প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্ব বিড়াল দিবস বা গ্লোবাল ক্যাট ডে পালিত হয়। ২০২৬ সালেও আজ এই দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য হলো বিড়ালকে মানুষের বসবাসের পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
বিশ্ব বিড়াল দিবসের ইতিহাস যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রাণীকল্যাণ সংস্থা অ্যালি ক্যাট অ্যালাইসের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০০১ সালে সংস্থাটি ১৬ অক্টোবর ন্যাশনাল ফেরাল ক্যাট ডে চালু করে। মূলত মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এবং খোলা পরিবেশে বসবাসরত বিড়ালদের সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
সেই সময় পথবিড়াল এবং মানুষের আশপাশে বসবাসকারী বিড়ালদের প্রতি অবহেলা এবং তাদের হত্যার মতো ঘটনা প্রাণীকল্যাণকর্মীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে বিড়ালের জীবন রক্ষা, তাদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং বিকল্প পরিচর্যার ব্যবস্থা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজন দেখা দেয়।
পরবর্তীতে এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের সীমা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করে। ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর প্রথমবারের মতো গ্লোবাল ক্যাট ডে উদযাপন করে অ্যালি ক্যাট অ্যালাইস। এর মাধ্যমে দিবসটির পরিধি আরও প্রসারিত হয়। পথবিড়ালসহ বিশ্বের সকল বিড়ালের সুরক্ষার বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে ওঠে।
বিশ্ব বিড়াল দিবসের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বিড়ালকে নিয়ে আনন্দ উদযাপন নয়। বরং তাদের জীবন রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিড়ালের প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণকে উৎসাহিত করা। পথবিড়াল অনেক সময় খাবারের অভাব, অসুস্থতা, দুর্ঘটনা এবং মানুষের নির্যাতনের শিকার হয়। তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও পরিচর্যার সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এই দিবসের মাধ্যমে এসব সমস্যা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়।
এছাড়া পথবিড়ালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মানবিক পদ্ধতি হিসেবে ট্র্যাপ-নিউটার-রিটার্ন (টিএনআর) কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে বিড়ালকে নিরাপদে ধরে নির্বীজকরণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর আগের পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর লক্ষ্য হলো বিড়ালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তাদের জীবন রক্ষা করা।
বিশ্ব বিড়াল দিবস মনে করিয়ে দেয়, বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা শুধুমাত্র ঘরে পোষ্য হিসেবে রাখা প্রাণীটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। পথেঘাটে বসবাসকারী বিড়ালের প্রতিও মানবিক আচরণ অপরিহার্য। তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ করা, অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নিরাপদে বেঁচে থাকার পরিবেশ তৈরিতে এগিয়ে আসা এই দিবসের অন্যতম বার্তা।
অতএব, ১৬ অক্টোবর কেবল বিড়ালকে ভালোবাসার দিন নয়, বরং তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণের দায়িত্ব নতুন করে উপলব্ধি করার দিন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের সঙ্গে বিড়ালের সহাবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রতিটি বিড়ালের জীবনকে গুরুত্ব দেওয়াই বিশ্ব বিড়াল দিবসের মূল তাৎপর্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন