প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুর এলাকার রাবেয়া হাসপাতালের পাশে অবস্থিত একটি আবাসিক ভবনে পুলিশ অভিযানের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও তৈরির অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী, তাদের দুই ছেলে এবং পাশাপাশি আরও একজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় পুলিশ বিভিন্ন জেলা থেকে চাকরির প্রলোভনে এনে আটকে রাখা চার তরুণীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে, যখন আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল আদালতে সোপর্দ করা হয়, তখন বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, তাদের দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং আব্দুর রহিম। যদিও তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়, তবে তারা দীর্ঘকাল ধরে নোয়াখালীতে ভাড়া বাসায় থাকছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া তরুণীদের একজন সাহস করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন এবং সাহায্য চান। ওই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ধারণের জন্য ব্যবহৃত ক্যামেরা, ছয়টি মোবাইল ফোন, একটি চাবুক, ছুরি, কাঁচি এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া এক তরুণী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর সূত্র অনুযায়ী, এক বান্ধবীর মাধ্যমে সালাউদ্দিন বিপ্লবের সাথে পরিচয়ের পর পার্লারে চাকরির আশ্বাস দিয়ে গত ২ আগস্ট চৌমুহনীতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাড়াতাড়ি মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক যৌন কাজ ও পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ধারণ করতে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এগুলো অনলাইনের একটি অ্যাপের মাধ্যমে সম্প্রচার করে অর্থ উপার্জন করা হতো এবং বাসায় থাকা অন্যান্য কিছু তরুণীকেও দীর্ঘকাল ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রতিবাদ করলে তাদের শারীরিক নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো! হাবীবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত তরুণীদের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন