প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণকাজ স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ চলছিল। প্রশাসন নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞার ব্যানারও টাঙিয়েছে। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে এবং ভবন নির্মাণের অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন। প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি দাবি করেছেন, নির্মাণকাজ বন্ধের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
মঙ্গলবার দুপুরে কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নির্মাণস্থলে টাঙানো ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, "যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় নির্দেশক্রমে এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ সময় কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিতে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্প এলাকায় একটি মসজিদ ও কনভেনশন হল নির্মাণের কাজও চলছিল। চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লীয়াবাদ গ্রামসংলগ্ন এলাকায় হোটেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়নকাজ এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধও রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান দেওয়ানি আদালতে জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তার দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তার দাদা চিথাও ও নাথাও।
ফলে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ঘিরে অনুমোদনসংক্রান্ত প্রশ্ন এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ উভয়ই সামনে এসেছে। তবে জমিটির মালিকানা সম্পর্কে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে চেয়ারম্যান হিসেবে তার নাম ও ছবি রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পটিকে ‘বাংলাদেশের হালাল ট্যুরিজম’ হিসেবে প্রচার করে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রচারণায় পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটির শেয়ারের মালিক হওয়ার সুযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্মাণকাজ বন্ধের বিষয়ে প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মনির মুসুল্লী বলেন, "এটি একটি বড় প্রকল্প। এ প্রকল্পের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরেও ভবন নির্মাণের অনুমতি চেয়ে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এমনকি কুয়াকাটা পৌরসভা থেকেও অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, "নির্মাণকাজ বন্ধের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।"
অন্যদিকে, কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, "যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে জমিটি রেলওয়ের স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এসব কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিএস জরিপ অনুযায়ী জমিটি কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাধীন বলেও জানান তিনি।
এআরবি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন