প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যার ঘটনায় মূল হোতা সহ এজাহারনামীয় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, হামলাকারীরা সবাই নেশাগ্রস্ত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আপন এবং জিহাদ অত্যন্ত অপরাধপ্রবণ। তাদের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড খুব খারাপ। তারা ওই অঞ্চলের কিশোর গ্যাং লিড করে এবং মাদকের সাথে জড়িত। হামলাকারীরা ‘সবাই নেশাগ্রস্ত’ ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আজ সোমবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘চার জনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি এবং তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি। একই ঘটনায় র্যাব-৪ আরো চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
ফলে, আমরা এজাহারনামীয় মোট ১৫ জনের মধ্যে র্যাব ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।’
ঘটনার বিবরণে র্যাব জানায়, শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করেন। প্রাইভেটকারে থাকা ৫ জন গ্যারেজ মালিককে হামলা করলে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। ওই সময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এসআই আলতাফ হোসেন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন দৌঁড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়।
র্যাব জানায়, এরপর তারা ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, আসলে পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে কোনো টার্গেট ছিলেন না। কারণ আলতাফ হোসেন উনি এসবিতে চাকরি করেন বা করতেন এবং সিভিল পোশাকে ছিলেন। তিনি পুলিশ এবং একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব মনে করে মানবিকভাবে একজন বৃদ্ধ মানুষকে আঘাত করা থেকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এটি নিতান্তই বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা।
র্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, হামলাকারীদের বেশিরভাগই কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট এবং মাদক সংক্রান্ত বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। আলাউদ্দিন নিজে আলতাফের উপরে আঘাত করেছে। জিহাদ নিজে চাকু দিয়ে আঘাত করে জখম করেছে। আপন ওই গ্যাংয়ের মূল হোতা, তার বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে। সে এসএস পাইপ দিয়ে আলতাফের মাথায় আঘাত করে। ইমরান গণপিটুনিতে অংশ নেয়।
এ সময় র্যাব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৯ ধারার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমলযোগ্য অপরাধ হলে শুধু পুলিশ নয়, সাধারণ মানুষও অপরাধীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করতে পারে।’
এছাড়া, কোনো সমস্যা হলে নাগরিকদের এগিয়ে না এসে ছবি তোলা ও ভিডিও করার প্রবণতায় হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের মানসিকতা মানুষের 'নৈতিক স্খলনের বহিঃপ্রকাশ'।
এদিকে এসআই আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যার ঘটনায় মূল হোতা সহ এজাহারনামীয় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাভার মডেল থানা থেকে রিমান্ড আবেদন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। সাভারের আমিনবাজার ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মূলহোতা জহিরুল ইসলামকে ১০ দিনের এবং বাকি ৮ জনকে ৭ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলো- সাভারের আমিন বাজার এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে আলাউদ্দিন (২৬), সামসুলের ছেলে আপন (৩০), সামসুলের ছেলে জিহাদ (২০), মৃত নজরুলের ছেলে ইমরান (২৬), মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. বজলু শেখের ছেলে মো. রাকিব মিয়া (২৮), মৃত হালিম মিয়ার ছেলে ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) এবং মো. জিন্নত আলীর ছেলে মো. ওয়াসিম (৪০)।
এদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন