প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি তথা আরব দলগুলো ১৯টি আসন অর্জন করেছে, যা তাদের সরকার গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৪টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের গাদি আইজেনকোট নেতৃত্বাধীন জোট ৪৭টি আসন লাভ করেছে, যারা তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আগ্রহী।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণের পর শুরু হয় ভোট গণনা। আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) পর্যন্ত ৭০ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে, যা প্রায় ৪০ লাখ ব্যালট। ভোটের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসনসংখ্যায় বড় পরিবর্তন না এলেও ফিলিস্তিনি দলগুলোর আসন সংখ্যা বেড়েছে।
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন সংখ্যা ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। ফলে কোনো একক জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ফিলিস্তিনি দলগুলো সরকার গঠনের সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি আগের নির্বাচনের তুলনায় সমর্থন হারালেও সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে, দলটি ২৭টি আসন অর্জন করেছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ২০টি আসন পেয়েছে।
তবে নেতানিয়াহুর জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো, তার কট্টর ডানপন্থি মিত্র ইতামার বেন-গভিরের ওতজমা ইয়েহুদিত এবং বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়নিজম পার্টির সমর্থন কমেছে। উভয় দল যথাক্রমে ৭ ও ৬টি আসন পেয়েছে।
ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি দলগুলোর আসন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে একাধিক আরব দলের জোট জয়েন্ট লিস্টের আসন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, দলটি ১৩টি আসন পেয়েছে। রা’আম ৬টি আসন লাভ করেছে।
দলভিত্তিক আসনসংখ্যা
দল আসন
লিকুদ (নেতানিয়াহু)- ২৭
ইয়াশার (আইজেনকোট)- ২০
জয়েন্ট লিস্ট- ১৩
টুগেদার (নাফতালি বেনেট)- ১১
ডেমোক্র্যাটস (ইয়ার গোলান)- ৮
ইসরাইল বেইতেনু- ৮
শাস- ৭
ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম- ৭
ওতজমা ইয়েহুদিত- ৭
রিলিজিয়াস জায়নিজম- ৬
রা’আম- ৬
ভোট গণনার হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোটের ৫৪টি আসন এবং বিরোধী ও ফিলিস্তিনি দলগুলোর সম্মিলিত ৬৬টি আসন রয়েছে। তবে বিরোধী দল ও ফিলিস্তিনি দলগুলো একসঙ্গে কাজ করে জোট সরকার গঠনের পক্ষে যাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
তবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেছেন জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্য অর্জনে তার দল দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।
জাতীয় সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথকে জাবারিন বলেন, ‘এই সরকার প্রতিটি আরব নাগরিকের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।’ তিনি মন্তব্য করেন, নিজেদের রাজনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দলের আদর্শ ও মূল্যবোধ এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তাঁদের রয়েছে।
জাবারিন বলেন, ‘নেতানিয়াহু, বেন-গভির ও স্মোত্রিচের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে তাদের বাড়ি পাঠানোর পথ তৈরি করতে আমরা প্রস্তুত।’
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন