প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
শিক্ষার্থীদের আপত্তি ঘিরে আলোচনা, অধ্যক্ষের ক্ষমাসুন্দর মনোভাব; ছোট শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ও ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালুর পরিকল্পনাকে ঘিরে শিক্ষা অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে ছোট শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা, অন্যদিকে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের আপত্তি—সব মিলিয়ে বিষয়টি অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি ক্ষমাসুন্দর মনোভাব প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহা। শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আচরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “ওরা আমার সন্তানের মতো, ক্ষমা করেছি।” তাঁর এই বক্তব্য শিক্ষার্থীদের প্রতি একজন শিক্ষকের স্নেহ ও দায়িত্ববোধের পরিচয় তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষকের মর্যাদা, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের আচরণ নিয়ে তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহা।
শিক্ষার্থীদের একাংশের আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, “ওরা আমার সন্তানের মতো। তাই যত বেয়াদবি, অসদাচরণ কিংবা অশ্লীল ভাষার ব্যবহারই করুক না কেন, দিনশেষে তো আমি ওদের শিক্ষক। আমি ওদের মন থেকে ক্ষমা করে দিয়েছি।”
অধ্যক্ষের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি ক্ষমাশীলতা ও অভিভাবকসুলভ মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো দাবি বা মতপার্থক্য থাকলে তা শালীনতা, যুক্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে প্রকাশ করাও জরুরি।
অভিভাবকদের দায়িত্ব প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, “শুধু কোনো ভালো স্কুল বা কলেজে সন্তানকে ভর্তি করিয়ে দিলেই অভিভাবকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। একটি শিশুর নৈতিক ভিত্তির মূল শেকড়টি গড়ে ওঠে তার পরিবার থেকে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সমাজে অনেক বাবা-মা পেশাগত ব্যস্ততার কারণে সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে কিংবা কী করছে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত খোঁজ রাখতে পারেন না। তাঁর মতে, পারিবারিক তদারকি ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি শিশুদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সন্তানকে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানোর পাশাপাশি তার মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেও অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।
বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালুর পরিকল্পনার বিপরীতে শিক্ষার্থীদের একাংশ শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে প্রাথমিক শাখার কার্যক্রম শুরু হলে উচ্চমাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হতে পারে।
অন্যদিকে, প্রাথমিক শাখা চালুর পক্ষে আগ্রহী অভিভাবকদের প্রত্যাশা, তাঁদের সন্তানরা একটি পরিচিত ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পেলে শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই ভালো ভিত্তি গড়ে তুলতে পারবে।
অভিভাবকদের মতে, শিক্ষকসংকট বা শ্রেণিকক্ষের সীমাবদ্ধতা থাকলে তা সমাধানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এসব সমস্যা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে ছোট শিশুদের শিক্ষার সুযোগ এবং বড় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান—দুটিই কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের আপত্তির কারণ ও প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সক্ষমতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকসংখ্যা, শ্রেণিকক্ষ, সময়সূচি, শিশুদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসে চলাচলের ব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ এবং শিক্ষাঙ্গনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিভাবকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষাও অর্জন করা জরুরি।
অভিভাবকদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ। তাঁদের মতে, কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তি থাকলে তা যুক্তিসংগতভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা উচিত। দাবি আদায়ের ক্ষেত্রেও শালীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনা এবং তাদের যৌক্তিক সমস্যার সমাধান করাও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সব পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো গেলে শিক্ষাঙ্গনে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন এক রকম নয়। প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ ও বাড়তি তদারকি প্রয়োজন। অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানও নির্বিঘ্ন রাখা জরুরি।
এ কারণে প্রাথমিক শাখা চালুর আগে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সক্ষমতা, শিক্ষকসংখ্যা, শ্রেণিকক্ষের প্রাপ্যতা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং সময়সূচি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উভয় শিক্ষাস্তরের প্রয়োজন সমন্বয় করা সম্ভব কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা ভুল-বোঝাবুঝি কমাতে এবং গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে পেতে সহায়ক হতে পারে।
বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালুর বিষয়ে সচেতন অভিভাবকদের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ যেন প্রতিষ্ঠানের বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা এবং ছোট শিশুদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার ক্ষমাসুন্দর বক্তব্য শিক্ষার্থীদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, অভিভাবকদের উদ্বেগ মনে করিয়ে দেয়, একটি শিশুর প্রকৃত বিকাশে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকুক, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত হোক এবং ছোট শিশুদের জন্য তৈরি হোক নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ। পারস্পরিক বিরোধ নয়, বরং দায়িত্বশীল আলোচনা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাথমিক শাখা চালুর বিষয়ে একটি ইতিবাচক সমাধান বেরিয়ে আসুক—এটাই সচেতন অভিভাবক সমাজের প্রত্যাশা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন