প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রিটিশ জাদুঘরে থাকা মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার ঐতিহাসিক বাগদেবীর মূর্তি ভারতে ফেরানোর উদ্যোগ এখন নতুন গতি পেয়েছে। এতদিন বিষয়টি মূলত আদালত ও স্থানীয় বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।
ভারত সরকার আশা করছে, ভোপালে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সংস্কৃতি কর্মদল ও সংস্কৃতিমন্ত্রীদের বৈঠকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফেরত আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সেই আলোচনায় ব্রিটিশ জাদুঘরে থাকা বাগদেবীর মূর্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। চার দিনের এই বৈঠকে ঔপনিবেশিক আমলে চুরি, পাচার বা বিদেশে নিয়ে যাওয়া মূর্তি, ভাস্কর্য ও অন্যান্য প্রাচীন নিদর্শন নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অর্জনের ওপর জোর দেওয়া হবে। তবে মধ্যপ্রদেশের মানুষের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ নয়, এটি আবেগেরও বিষয়।
বহু বছর ধরে তাদের দাবি, ধারের ভোজশালা চত্বরের সঙ্গে সম্পর্কিত বাগদেবীর মূর্তিটি ব্রিটিশ জাদুঘর থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হোক। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সচিব বিবেক আগারওয়াল জানান, মধ্যপ্রদেশ সরকারের অনুরোধ পাওয়ার পর থেকেই কেন্দ্র সরকার এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই মধ্যপ্রদেশ সরকার বাগদেবীর মূর্তি ফিরিয়ে আনার আবেদন জানায়। এরপর থেকে ভারত সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে এবং ব্রিটিশ জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে আসছে।
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাজ্যে ভারতের কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। গত ১৫ মে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোজশালা-কামাল মৌলা চত্বর নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। রায়ে আদালত বিরোধপূর্ণ ওই স্থানকে দেবী সরস্বতী বা বাগদেবীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেন। সেইসাথে ২০০৩ সালে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের (এএসআই) সেই ব্যবস্থা বাতিল করেন, যা মুসলিমদের সেখানে শুক্রবারের নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিল। তাছাড়া আদালত সরকারকে ব্রিটিশ জাদুঘর থেকে বাগদেবীর মূর্তি ফিরিয়ে আনার আবেদনগুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
সাদা মার্বেলে তৈরি বাগদেবীর এই মূর্তিটি পরমার যুগের বলে মনে করা হয়। মূর্তির গায়ে থাকা একটি শিলালিপিতে একাদশ শতকের ধারের সঙ্গে এর সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে। মূর্তিটির উচ্চতা প্রায় ১ দশমিক ২৮ মিটার এবং ওজন প্রায় ২৫০ কিলোগ্রাম। ব্রিটিশ জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, মেজর জেনারেল উইলিয়াম কিনকেইডের কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে ১৯০৯ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরের সংগ্রহে যুক্ত হয়।
৫ ও ৬ আগস্ট ভোপালে ব্রিকস সংস্কৃতি কর্মদলের তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরপর ৬ ও ৭ আগস্ট হবে ব্রিকস সাংস্কৃতিক উৎসব এবং ৭ ও ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সংস্কৃতিমন্ত্রীদের বৈঠক। ব্রিকসের ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে ১০টি দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেবেন। শুধু সৌদি আরব এতে অংশ নিচ্ছে না। ভারত এই বৈঠকে বিদেশে থাকা নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেশে ফিরিয়ে আনার অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের কথাও তুলে ধরবে। ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পর থেকে বিদেশ থেকে ৬৫৩টি প্রাচীন নিদর্শন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর আগে উদ্ধার করা হয়েছিল মাত্র ১৩টি নিদর্শন। অর্থাৎ বর্তমানে ফেরত আনা মোট প্রাচীন নিদর্শনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬৬টি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও চোল ও বিজয়নগর যুগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য ভারতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বাদশ শতকের সোমাস্কন্দ মূর্তি এবং ষোড়শ শতকের সন্ত সুন্দরার ও পারাবাইয়ের মূর্তি। তাছাড়া চোল যুগের বিখ্যাত শিব নটরাজ মূর্তিটিও যুক্তরাষ্ট্রে প্রদর্শনী শেষ হলে ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াও তামিলনাড়ুর তিনটি প্রাচীন নিদর্শন ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি পাথরের নন্দী, ভদ্রকালীর প্রতিকৃতি খোদাই করা একটি ধাতব ত্রিশূল এবং ছয় মাথাবিশিষ্ট একটি পাথরের কার্তিকেয় মূর্তি। ভারত সরকার বলছে, বিদেশে থাকা দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সেই লক্ষ্যেই ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি আরো জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন