প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাতারের উত্তর উপকূলে একটি ট্যাংকারে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, কাতারের মদিনাত আশ শামাল থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার উত্তরে ট্যাংকার জাহাজটিতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে হামলায় হতাহতদের সঠিক সংখ্যা জানানো হয়নি।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিটিশ সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থাটি সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার খবর জানিয়েছিল। এর মধ্যে নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইউকেএমটিও হামলায় নিহত বা আহতদের সংখ্যা জানায়নি।
সংস্থাটি বলেছে, হামলার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। হামলার শিকার জাহাজটি কোন দেশের, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি।
উপসাগরের মাঝামাঝি এলাকায় জাহাজে হামলার ঘটনা অস্বাভাবিক। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে কাজ করা প্রকাশনা ‘দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ’ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উপসাগরের পশ্চিম অংশে ট্যাংকারে হামলার এটিই প্রথম ঘটনা।
এদিকে কাতারের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটলেও কাতার এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
আলজাজিরা জানাচ্ছে, ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা বেশি ঘটেছে। এই সরু সমুদ্রপথটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবহণ করা হতো।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরে অবরোধ বজায় রেখেছে।
ইউকেএমটিও গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে ৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেপ্টেম্বর মাসে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর মিলিয়ে যতগুলো হামলা হয়েছিল, চলতি মাসের এই সংখ্যা তার অর্ধেক।
তবে হামলার ঘটনা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি বেড়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে তেলের এই রপ্তানি।
তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যানুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সাত দিনের গড় ছিল প্রতিদিন এক কোটি ৮৩ লাখ ব্যারেল। যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগের ১২ মাসে এই গড় ছিল প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন