প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিপন্ন নৈতিকতা, শঙ্কায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
শিক্ষক একটি জাতির বিবেক গড়ার কারিগর। তাঁর হাত ধরেই একটি শিশু অক্ষরজ্ঞান অর্জন করে, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে শেখে এবং ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। অথচ সেই শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা, গলায় হাত দেওয়া, অপমান-অপদস্থ করা কিংবা জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো ঘটনা যখন সামনে আসে, তখন শুধু একজন শিক্ষক নন, অপমানিত হয় পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক মূল্যবোধ ও আমাদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
যে সমাজে গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা, শিক্ষকের প্রতি সম্মান এবং বড়দের প্রতি ভক্তিকে নৈতিক শিক্ষার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেই সমাজে শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণ আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। প্রশ্ন ওঠে, আমাদের সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে? তারা কী শিখছে? তাদের বিবেক, মূল্যবোধ ও মানবিকতা কোন পথে এগোচ্ছে?
এটি কি কেবল কয়েকজন শিক্ষার্থীর উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, নাকি এর পেছনে রয়েছে পারিবারিক শিক্ষার ঘাটতি, সামাজিক অবক্ষয়, রাজনৈতিক স্বার্থের অপব্যবহার এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি? এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। কোনো শিক্ষক ক্ষমতার অপব্যবহার করলে, শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্যায় আচরণ করলে কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু কয়েকজনের কর্মকাণ্ডের দায় পুরো শিক্ষকসমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়।
সব শিক্ষক দলীয়করণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। অনেক শিক্ষক রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক নির্দেশনা ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনা পালন করলেই কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। আবার কোনো নির্দেশনা বেআইনি হলে সেটিও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়।
অতএব, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত, প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাই ন্যায়বিচারের পথ। কিন্তু ঢালাও অপবাদ, অপমান, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
একটি সভ্য সমাজে অন্যায়ের প্রতিবাদ হবে, কিন্তু সেই প্রতিবাদও হতে হবে আইনসম্মত, শালীন ও দায়িত্বশীল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে নিজেরাই অন্যায় করলে প্রতিবাদের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
একসময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের শাসন, উপদেশ ও সংশোধনকে শিক্ষাজীবনের অংশ হিসেবে দেখত। সময়ের পরিবর্তনে শিক্ষাব্যবস্থা, শাসনপদ্ধতি ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সম্পর্কেও পরিবর্তন এসেছে। শারীরিক শাস্তি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়; শিক্ষকের দায়িত্বও শিক্ষার্থীকে মর্যাদা ও মানবিকতার সঙ্গে শিক্ষা দেওয়া। তবে শাসন ও নির্যাতনের পার্থক্য বোঝার পাশাপাশি শিক্ষককে সম্মান করার শিক্ষাও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
আজ উদ্বেগের বিষয় হলো, কিছু ঘটনায় শিক্ষককে প্রকাশ্যে হেনস্তা করা, ঘিরে ধরে অপদস্থ করা কিংবা দলবদ্ধ চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এসব ঘটনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং আইনি অবস্থান যাচাই করা জরুরি। তবে কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তি জনতার আদালতে হতে পারে না।
কয়েকজন একত্র হলেই যদি নিজেদের বিচারক, শাস্তিদাতা ও আইন প্রয়োগকারী মনে করতে শুরু করে, তাহলে রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা কোথায় থাকে?
যে শিক্ষার্থী আজ অভিযোগের নামে শিক্ষককে অপমান করতে দ্বিধা করছে না, সে আগামী দিনে ভিন্নমত পোষণকারী সহপাঠী, সহকর্মী কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করবে, সেই প্রশ্নও সামনে আসে। অবশ্য কোনো শিক্ষার্থী আজ শিক্ষককে অসম্মান করেছে বলেই সে ভবিষ্যতে অবশ্যই বাবা-মাকে অসম্মান করবে, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। কিন্তু অন্যায় আচরণকে প্রশ্রয় দেওয়া হলে তা যে আরও বড় সামাজিক সমস্যার জন্ম দিতে পারে, সে আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের বড় ক্ষেত্র তৈরি করেছে। অন্যায় প্রকাশ করা, নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনসচেতনতা তৈরিতে এর ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু একই মাধ্যম যখন কাউকে অপমান করার দৃশ্য ছড়িয়ে দিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন তা বিপজ্জনক।
কোনো শিক্ষককে ঘিরে ধরে অপদস্থ করার ভিডিও ধারণ, তা ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা এমন আচরণকে বীরত্ব হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা থাকলে তা সমাজের জন্য সতর্কসংকেত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের আকাঙ্ক্ষা যেন কারও সম্মানহানি, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কিংবা আইনি অধিকার লঙ্ঘনের কারণ না হয়।
কোনো ঘটনা ভাইরাল হলেই সেটি ন্যায়সংগত হয়ে যায় না। জনতার সমর্থন পেলেই কেউ অপরাধী হয়ে যান না, আবার সংখ্যাগরিষ্ঠের উচ্ছ্বাস কোনো বেআইনি কাজকে বৈধতা দিতে পারে না।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে তার প্রতিকার প্রয়োজন। কিন্তু সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত বিরোধ মেটানো, পদ দখলের চেষ্টা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তরুণদের ব্যবহার করা হলে তা আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উসকানি ছিল কি না, তা প্রমাণ ছাড়া বলা যায় না। তবে অভিযোগের আড়ালে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ কাজ করছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তরুণদের আবেগ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদী মনোভাবকে ইতিবাচক কাজে লাগানো গেলে তারা সমাজ পরিবর্তনের শক্তি হতে পারে। আর সেই আবেগকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পথে পরিচালিত করা হলে তার পরিণতি ভোগ করতে পারে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শেষ পর্যন্ত পুরো রাষ্ট্র।
সন্তানের ভালো ফলাফল, ভালো চাকরি কিংবা প্রতিষ্ঠিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের উদ্বেগ স্বাভাবিক। কিন্তু সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব কি শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের?
সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী দেখছে, কী প্রচার করছে এবং অন্য মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে, এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি। সন্তান কোনো অন্যায় করলে তার পক্ষ নেওয়ার আগে সত্যতা যাচাই করা এবং ভুল হলে তাকে ভুল স্বীকার করতে শেখানোও পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সন্তানের অন্যায়কে ভালোবাসার নামে সমর্থন করা প্রকৃত অভিভাবকত্ব নয়। বরং ভুলের প্রতিবাদ করে তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই দায়িত্বশীল অভিভাবকের কাজ।
আজ যদি সন্তানকে শেখানো না হয় যে শিক্ষক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শ্রমিক, প্রবীণ কিংবা ভিন্নমতের মানুষ—সবারই সম্মান ও অধিকার রয়েছে, তাহলে শুধু ভালো ফলাফল দিয়ে তার মানবিকতার ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না।
একটি সন্তানকে শুধু সফল হওয়ার শিক্ষা দিলে হবে না, তাকে দায়িত্বশীল হতে হবে, সংযম শিখতে হবে, অন্যের মতামতকে সম্মান করতে হবে এবং নিজের কাজের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নৈতিকতা ছাড়া অর্জিত সাফল্য সমাজের জন্য কতটা কল্যাণকর, সেটিও ভেবে দেখার বিষয়।
এই প্রশ্নটি আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নয়, বরং পরিবার ও সমাজকে আত্মসমালোচনার মুখোমুখি করার জন্য।
যে পরিবারে সন্তানকে শেখানো হয়, নিজের ইচ্ছাই শেষ কথা; যে পরিবেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুক্তি ও আইনের পরিবর্তে শক্তি প্রদর্শনকে উৎসাহিত করা হয়; যে সমাজে দলবদ্ধ চাপের কাছে ন্যায়বিচারকে পরাজিত হতে দেখা যায়, সেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
আজ শিক্ষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারকে কেউ যদি সামান্য ঘটনা মনে করেন, তাহলে মনে রাখা প্রয়োজন, সম্মানবোধ কোনো নির্দিষ্ট সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সামগ্রিক আচরণের ভিত্তি।
শিক্ষককে অসম্মান করা মানেই প্রতিটি ক্ষেত্রে বাবা-মাকে অসম্মান করা হবে, এমন নয়। কিন্তু যে প্রজন্মকে অন্যের মর্যাদা রক্ষা করতে শেখানো হবে না, সেই প্রজন্মের কাছে ভবিষ্যতে কারও সম্মান ও অধিকার কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক।
শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অভিযোগ উপেক্ষা করা যাবে না। একইভাবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের কথা বলে শিক্ষকদের ওপর নির্যাতন, অপমান কিংবা বেআইনি চাপও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিক্ষক অপরাধ করলে তিনি জবাবদিহির বাইরে থাকবেন না; আবার কোনো শিক্ষার্থী বা বহিরাগত ব্যক্তি শিক্ষকের ওপর হামলা কিংবা জবরদস্তি করলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং নাগরিক সমাজকে সম্মিলিতভাবে অসহিষ্ণুতা ও দলবদ্ধ সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।
একটি দেশের ভবিষ্যৎ শুধু তার অবকাঠামো, অর্থনীতি কিংবা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না। সেই দেশের মানুষ কতটা মানবিক, ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্বশীল, তার ওপরও ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল।
শিক্ষক যদি শ্রেণিকক্ষে অপমানিত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রবেশ করেন, শিক্ষার্থী যদি অভিযোগের প্রতিকার পেতে আইনের বদলে দলবদ্ধ চাপকে বেছে নেয় এবং অভিভাবক যদি সন্তানের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন, তাহলে শিক্ষা ও মূল্যবোধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
আমরা কেমন বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই? এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে অভিযোগের বিচার হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, নাকি এমন একটি সমাজ, যেখানে জনতার চাপই কারও অপরাধ নির্ধারণ করবে? আমরা কি সন্তানদের এমন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যারা যুক্তি দিয়ে প্রতিবাদ করবে, নাকি এমন মানুষ হিসেবে, যারা দলবদ্ধ হলেই অন্যের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার পেয়ে গেছে বলে মনে করবে?
প্রশ্নগুলো কঠিন, কিন্তু এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা করা মানে তাঁদের ভুলের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া নয়। এর অর্থ হলো, অভিযোগ থাকলে তার ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করা এবং কোনো ব্যক্তিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অপমান বা নির্যাতন করার সুযোগ না দেওয়া।
অভিভাবকদের এখনই সন্তানদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে, কোনো অভিযোগের বিচার হবে আইনের পথে, জনতার রোষে নয়।
কারণ, একটি প্রজন্ম যখন তার শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করতে শেখে না, তখন শুধু একজন শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হন না; ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই প্রজন্মের ভবিষ্যৎও।
আজকের সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন তাই একটাই—আমরা কি সন্তানদের শুধু শিক্ষিত করছি, নাকি সত্যিকার অর্থে মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলছি?
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন