প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলোকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিনি তেহরানের ওপর তীব্র সমালোচনা করেছেন।
অবশ্য স্থানীয় সময় শুক্রবার (১২ জুন) সকালে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে প্রকাশিত শর্তগুলো ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, লিখিতভাবে উভয় পক্ষ যেসব শর্তে সম্মত হয়েছে, তার সঙ্গে এর ‘কোনো সম্পর্ক নেই’ বলে মন্তব্য করেন।
এছাড়া ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ‘তাদের সঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত অসম্মানজনক। তাদের সঙ্গে সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করার কোন সুযোগ নেই।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, একটি চুক্তি ‘অনুমোদিত’ হয়েছে এবং একাধিক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হতে পারে, তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত করছে যে সম্ভাব্য সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
পোস্টে ট্রাম্প নির্দিষ্ট করে কোন প্রতিবেদনের কথা বলেছেন তা তিনি উল্লেখ করেননি। তবে তার মন্তব্যের কিছুক্ষণ আগে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ সম্ভাব্য চুক্তির সাতটি মূল বিষয় প্রকাশ করেছে।
আইআরএনএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থার মধ্যে থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ইরান কোনো বড় ধরনের ছাড় দেয়নি। প্রতিবেদনে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নতুন কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, শুধুমাত্র একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ৬০ দিন পর নতুন পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে বলেই জানা গেছে।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার বিষয়েও ইরান কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক সমঝোতা শুধুমাত্র জলপথে স্বাভাবিক চলাচল ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে এবং এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করবে তেহরান।
প্রতিবেদনে ইরানের জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে চুক্তি স্বাক্ষরের পর। বাকি সম্পদ মুক্ত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধজনিত ক্ষতিপূরণ নিয়ে পরবর্তী সময়ে আলোচনা হবে বলেও জানান হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানকে যেমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে একটি সমঝোতা চুক্তি কাছাকাছি আসার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে টানা দুই দিন ধরে হামলা চালিয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রাথমিক চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এর আগে, সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করার কথাও জানান তিনি।
তবে এর কিছু ঘণ্টা পরেই যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘এটি সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন