প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রায় অর্ধ যুগের বেশি সময় ধরে নিষিদ্ধ গ্লুকোজ জেলি, সয়াবিন তেল, কস্টিক সোডা ও চিনি মিশিয়ে ভেজাল বা নকল দুধ উৎপাদন করে আসছিলেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার আবুল বাশার (৪৫)। তিনি ভাঙ্গুড়া সদর ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা গ্রামে নিজের বাড়িতে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রতিদিন সহস্রাধিক লিটার নকল দুধ তৈরি করতেন। এই বিষাক্ত দুধ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নামকরা কোম্পানি ও আটঘরিয়ার ‘ফারুক ডেইরি’র মাধ্যমে বাজারজাত করা হতো।
অবশেষে তিনবার নামমাত্র সাজা ও জরিমানা দেওয়ার পর চতুর্থবারের অভিযানে আবুল বাশারকে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই দণ্ড প্রদান করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুধের রাজধানী খ্যাত ভাঙ্গুড়ায় এক দশক আগে প্রতিদিন লাখ লাখ লিটার খাঁটি দুধ উৎপাদিত হতো। এই খ্যাতির সুযোগ নিয়ে প্রায় ৮-৯ বছর আগে সঞ্জয় কুমার নামের এক ব্যবসায়ী প্রথম নকল দুধ তৈরি শুরু করেন। তৎকালীন ইউএনও’র হাতে একবার কারাদণ্ড ভোগ করার পর প্রভাবশালী মহলের মদদে তিনি আরও বড় পরিসরে এই কারবার শুরু করেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে আবুল বাশার যুক্ত হন। কালক্রমে তারা পুরো এলাকায় একটি শক্তিশালী নকল দুধের সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
জানা যায়, আবুল বাশার বাইরে থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ গ্লুকোজ জেলি আমদানি করে স্থানীয় কারবারিদের কাছে বিক্রি করতেন। এর আগেও বাশারের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান পরিচালিত হলেও তিনি নামমাত্র শাস্তিতে বেঁচে যান।
২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর ভাঙ্গুড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বাশারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার নিষিদ্ধ গ্লুকোজ জেলি ও নকল দুধ জব্দ করলেও মাত্র ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল একটি ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে আমদানিকৃত প্রায় ৮০০ লিটার নিষিদ্ধ গ্লুকোজ জেলি জব্দ করা হলেও রহস্যজনকভাবে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এরপর চলতি মাসের ৮ তারিখ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জেলি ও নকল দুধ পাওয়ার অপরাধে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও বাড়ি সিলগালা করে। কিন্তু সিলগালা উপেক্ষা করে বাশার তার অবৈধ কারবার চালিয়ে যান।
অবশেষে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজের নেতৃত্বে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত অভিযানে বাড়িটি থেকে ২ হাজার ৭০০ লিটার গ্লুকোজ জেলি, ২০০ লিটার সয়াবিন তেল, ৩২০ লিটার নকল দুধ ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
এই অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত আবুল বাশারকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ ছাড়া তার সহযোগী একই গ্রামের সবুজের ছেলে সবুজকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম লিমা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই নকল দুধ পান করলে মানুষের শরীরে ক্যান্সার, শারীরিক বিকলাঙ্গতা ও শিশুদের বিকাশগত মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজ জানিয়েছেন, জনস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন