প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামালপুরে আলোচিত চাচা-ভাতিজা জোড়া খুন মামলায় সাত জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাত জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে, একই সাথে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন। এই জনাকীর্ণ হত্যা মামলার রায় দশ বছর পর ঘোষণা হওয়ায় বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে সাখাওয়াত (৩২), তহিজলের ছেলে মো: সোহেল (৩০), আছর শেখের ছেলে আল আমিন (৩০), মৃত ভোলা শেখের ছেলে সাদ্দাম (৩০), কামালের ছেলে উজ্জল (৩০), সোজা মিয়ার ছেলে অন্তর (৩০) এবং শহিদুলের ছেলে ফয়জুর (৩২)। অপরদিকে যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামীরা হলেন মাদারগঞ্জ উপজেলার একই এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে চাঁন মিয়া (৫০), আছর শেখের ছেলে মো: জিয়ার (৪৫), ভোলার ছেলে শাহ আলম (৪১), রফিকুল ইসলামের ছেলে কাওসার (২৯), তারা মিয়ার ছেলে রিফাত (৩১), আব্বাস আলীর ছেলে সুমন (৩১) এবং মৃত নাটু শেখের ছেলে মোস্তফা (৪৯)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায়। জানা যায়, মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে পুলিশ প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। তাদের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে মোহর আলী ও স্বপন মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মোস্তফার সহযোগী সাখাওয়াত ও সোহেল মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আরেক সহযোগী সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার নামে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নিয়ে যায়। সেখানে মোস্তফার লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে হত্যা করে। ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ পাটখেত থেকে দুজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মহর আলী (১৯) গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে এবং স্থানীয় মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ভাতিজা স্বপন মিয়া (১৬) একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার আরও জানিয়েছেন, এই ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামী করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় বাকী আসামীদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। মামলায় ৪২ জনের মধ্যে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। বিচার প্রক্রিয়া শেষে দীর্ঘ দশ বছর পর আজ রায় ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন। রায়ে সাত জন আসামীকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অপর সাত আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে আমি খুশি। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যেন সরকার দ্রত এই রায় কার্যকর করে।
মামলায় আসামী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমান উল্লাহ আকাশ, নওয়াব আলী ও নজরুল ইসলাম। চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ দুইবার পিছানো হয়েছিল। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন