প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডায়াবেটিস থাকলে খাদ্য নির্বাচনে অনেকের দ্বিধা থাকে। বিশেষ করে শুকনো ফল বা ড্রাই ফ্রুটস সম্পর্কে প্রশ্নের পরিমাণ আরও বেশি। সঠিক ধরনের শুকনো ফল এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে শুকনো ফলে পানির পরিমাণ কম থাকে, ফলে অল্প পরিমাণে বেশি ক্যালরি ও প্রাকৃতিক চিনি পাওয়া যায়। তাই পরিমাণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া অপরিহার্য।
কতটা শুকনো ফল খাওয়া যেতে পারে?
ডায়াবেটিস থাকলে একসঙ্গে বেশি শুকনো ফল খাওয়ার পরিবর্তে অল্প পরিমাণে খাওয়াই উত্তম। কিছু বিশেষজ্ঞ ২–৩ টুকরো বা এক মুঠো পরিমাণ দিয়ে শুরু করার পরামর্শ দেন। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা, ওষুধ, দৈনিক খাবারের ধরন ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে উপযুক্ত পরিমাণ নির্ধারণ হতে পারে।
কোন শুকনো ফল বেছে নিতে পারেন?
আখরোট
আখরোটে ফাইবার ও অসম্পৃক্ত ধরনের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বিদ্যমান। এটি পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে এবং খাবারের মাঝখানে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে।
বাদাম
বাদামে ফাইবার, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে বাদাম খেলে খাবারের সামগ্রিক পুষ্টিমান বাড়ানো সম্ভব এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সহায়ক হতে পারে।
কিশমিশ
কিশমিশে প্রাকৃতিক চিনি ঘনভাবে বিদ্যমান। সুতরাং ডায়াবেটিস থাকলে এটি অল্প পরিমাণে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে বেশি কিশমিশ খেলে মোট কার্বোহাইড্রেট ও চিনি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।
শুকনো এপ্রিকট
শুকনো এপ্রিকটে ফাইবার ও বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। তবে অন্যান্য শুকনো ফলের মতো এটিতেও প্রাকৃতিক চিনি ঘন থাকে, তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে খাওয়া উচিত।
তাজা ফল নাকি শুকনো ফল?
ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে সাধারণত পুরো তাজা ফলকে খাদ্যতালিকায় রাখা সহজ, কারণ এতে পানির পরিমাণ বেশি এবং একই পরিমাণ খাবারে চিনি তুলনামূলকভাবে কম ঘন থাকে। শুকনো ফল খেলে ছোট পরিমাণে বেশি কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ হয়ে যেতে পারে।
তাহলে শুকনো ফলকে তাজা ফলের বিকল্প হিসেবে বেশি পরিমাণে না খেয়ে পরিমিত একটি অংশ হিসেবে রাখা ভালো।
কেনার সময় সতর্ক থাকুন
সব শুকনো ফল সমান নয়। বাজারে কিছু ড্রাই ফ্রুটসে অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ বা অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। তাই সম্ভব হলে চিনি বা সিরাপ ছাড়া শুকনো ফল বেছে নেওয়া উচিত এবং প্যাকেটের পুষ্টিগুণের তথ্য দেখে কার্বোহাইড্রেট ও মোট চিনির পরিমাণ যাচাই করা জরুরি।
ডায়াবেটিস থাকলেও শুকনো ফল একেবারে নিষিদ্ধ নয়। তবে এটি তুলনামূলকভাবে চিনি ও ক্যালরিতে ঘন, তাই অল্প পরিমাণে, হিসাব করে এবং আপনার সামগ্রিক খাবারের কার্বোহাইড্রেটের মধ্যে রেখে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি যদি ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, কিংবা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা থাকে, তাহলে নিয়মিত শুকনো ফল খাওয়ার পরিমাণ ঠিক করার আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন