প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের বন্যাকবলিত ১১ জেলায় সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২ টায় সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের নানা জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এর ফলে যোগাযোগ, অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হলেও সরকার দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে যাতে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত হয়। কোথাও যেন কোনো রোগী চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে অতিরিক্ত মেডিকেল টিমও পাঠানো হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, এক হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ায় রাতেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চিকিৎসাসামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত ১১টি জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে মাঠে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১টি জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষত গর্ভবতী নারীদের, শিশুদের এবং দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাপে কাটার ঘটনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার কারণে আগেই সতর্কতা জানিয়েছে। জনগণের কাছে ওঝা যাওয়ার পরিবর্তে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান করা হয়েছে। বন্যার প্রথম রাতেই পাঁচজন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে এবং সবাই সুস্থ আছেন। এখন পর্যন্ত মোট ৯৫ জন সাপে কাটা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদ্-দ্বীন হাসপাতালের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ত্রুটিগুলো সংশোধনের জন্য পুনরায় পরিদর্শনের আবেদন করেছে। সরকার পরিদর্শন করে পরিস্থিতি সন্তোষজনক মনে করলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী মত প্রকাশ করেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন এবং সবাই বর্তমানে সুস্থ আছেন। বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে, যেখানে জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল সংরক্ষণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে। ফলে অ্যান্টিভেনম সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
তিনি আরও বলেন, বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্য বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ওআরএস, স্যালাইন, ওষুধ এবং বিশেষ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের দ্রুত উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ১৬২৬৩ নম্বর এবং স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন