প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সার্বিক শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের হাওয়া লাগলেও তার কোনো প্রভাব পড়েনি নীলফামারীর সরকারি দপ্তরগুলোতে। অভিযোগ উঠেছে, জেলার বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে দায়িত্বরত বেশ কিছু কর্মকর্তার কথাবার্তা, আচরণ ও কর্মপদ্ধতিতে এখনও ফুটে উঠছে পুরোনো কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার ছাপ। এতে সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক দপ্তর, ভূমি অফিস, হাসপাতাল এবং অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গিয়ে নিয়মিতই অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সই করানো কিংবা সাধারণ তথ্যের জন্য গিয়েও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মিলছে না সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব। কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলে বা কাজের অগ্রগতি জানতে চাইলে উল্টো ধমক, এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা ও ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ তুলছেন অনেকে।
সেবা নিতে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকার পরিবর্তন হলেও আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই ঘুরতে হচ্ছে, ঘুষ ও তদবির ছাড়া কাজ হচ্ছে না। অনেক কর্মকর্তা নিজেদের আগের আমলের মতোই ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। তাঁদের কথাবার্তা এবং ভাবভঙ্গি দেখে মনেই হয় না যে দেশে কোনো পরিবর্তন এসেছে।"
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক আমূল সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি কমবে না। তাঁরা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই পুরোনো মনোভাব বজায় থাকলে গণঅভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
এ বিষয়ে জানতে নীলফামারীর জেলা প্রশাসনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সরাসরি মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের আচরণের মানসিকতা পরিবর্তন এবং জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন