প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিমা জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তেল, গ্যাস এবং পাইপলাইন খাতে ইরাক কয়েক ডজন চুক্তি করেছে। শুক্রবার, ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক ব্যবসায়িক সম্মেলনে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের 'বাধ্যতামূলক নয়' এরূপ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। ইরাক সরকার জানিয়েছে, তারা বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং বিশ্বের বড় কোম্পানিগুলোর জন্য দেশটিকে আরও উন্মুক্ত করতে চাইছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করেও যাচ্ছে।
সম্মেলনে, দোভাষীর মাধ্যমে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বলেন, তাদের সরকার সবার জন্য 'দরজা খোলা রাখার নীতি' অনুসরণ করছে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো কোম্পানি বা বিনিয়োগকারী নতুন প্রকল্প নিয়ে ইরাকের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। সরকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্সে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে ইরাকের সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছিলেন।
ইরাকের এই উদ্যোগটি এমন সময় এসেছে, যখন দেশটি বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস রপ্তানির নতুন পথ খুঁজছে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প রপ্তানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বাগদাদ।
সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত টম ব্যারাক বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ একদিকে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, ইরাক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন কৌশলগত নিরাপত্তা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
সম্মেলনের আগে, বৃহস্পতিবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরনের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন। এরপর, ইরাকের কর্মকর্তারা শেভরনের সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করেন। এই সকল চুক্তির মাধ্যমে ইরাকের পশ্চিম কুরনা-২ এবং নাসিরিয়া তেলক্ষেত্রে কমিশনির সম্ভাব্য কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে।
সম্মেলনে শেভরনের করপোরেট ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের সভাপতি জেক স্পিয়ারিং জানান, তাদের কোম্পানি একটি নতুন পাইপলাইন প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী, যা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই ইরাকের তেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি করবে।
তিনি বলেন, এই পাইপলাইন চালু হলে ইরাক নতুন একটি রপ্তানি পথ পাবে। এর মাধ্যমে দেশটির তেল ভূমধ্যসাগর উপকূলে সিরিয়ার পশ্চিম উপকূলে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের বিকল্প পথ তৈরি হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন